সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে

54

gourbangla logoঅপ্রতিরোধ্যভাবে সড়ক দুর্ঘটনা যদি ঘটতেই থাকে, তবে তা সন্দেহাতীত ভাবেই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, ঘর থেকে বের হয়ে ঘরে ফেরা যাবে, তার নিশ্চয়তা নেই। অথচ বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু আমলে নেয়া প্রয়োজন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে তখনই সফলতা পাওয়া যাবে, যখন নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরগুলো পর্যবেক্ষণ করলে জানা যায়, প্রতিনিয়ত দেশের কোনো না কোনো এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অকাল মৃত্যুবরণ করছে মানুষ। এমনও ঘটনা ঘটেছে যে, দুর্ঘটনায় গোটা পরিবার শেষ হয়ে গেছে।
সম্প্রতি জাতীয় দৈনিকে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, আমরা মনে করি, তা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার জন্ম দেয়, যা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তথ্যমতে, সড়ক দুর্ঘটনায় গত দুই বছরে দুই হাজার ৪৬৬ জন নারী ও শিশুসহ ১০ হাজার ২৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে! এ সময়ে সংঘটিত সাত হাজার ৫৯০টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে আরও ২২ হাজার ৫৯৮ জন। যদিও ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত সোমবার বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। মূলত দেশের শীর্ষস্থানীয় ২০টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানা যায়।
আমরা বলতে চাই, যখন পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ২০১৫ সালের চেয়ে ২০১৬ সালে নৌ, সড়ক ও রেলপথে দুর্ঘটনা ও নিহত মানুষের সংখ্যা উভয়ই কমেছে, তখন তা ইতিবাচক। তবুও দুর্ঘটনা যেভাবে ঘটছে, তা স্বস্তির নয়। ফলে এই হার কমাতে আরো বেশি পদক্ষেপ গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে। কেননা, ২০১৬ সালে দুর্ঘটনা কমলেও তবুও যে চিত্র পরিলক্ষিত হয়, তার ভয়াবহতাও কম নয়। যখন জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই কারণগুলোকে আমলে নিয়ে সরকার সংশ্লিষ্টদের দুর্ঘটনা হ্রাসে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ সমীচীন। দুর্ঘটনা হ্রাসের প্রধান পাঁচটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বছরজুড়ে গঠনমূলক সংবাদ প্রচার, দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন, বছরের অধিকাংশ কর্মদিবসে রাজপথে সড়ক পরিবহণমন্ত্রীর পদচারণ, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা ও পুলিশের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বাঁক চিহ্নিত করে সতর্কীকরণ সংকেত স্থাপন ও সড়ক সংস্কার। এ ছাড়া শুধু সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধান সাতটি কারণ চিহ্নিত করেছে জাতীয় কমিটি। কারণগুলো হলো বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ, নিয়ম ভঙ্গ করে ওভার লোডিং ও ওভারটেকিং করার প্রবণতা, চালকদের দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও বেহাল সড়ক।
আমরা বলতে চাই, জনগণের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা দিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য। লক্ষ্যণীয় যে, মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলোর পর এ নিয়ে বেশ কিছু দিন নানা পরিকল্পনা চলে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা উদ্যোগের কথাও আমরা জানতে পারি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুর্ঘটনা রোধ হয় না। ফলে এর পরিপ্রেক্ষিতে মূল গলদগুলো শুধু চিহ্নিতই নয়, বরং তা শনাক্ত করে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। যদি শনাক্ত করা বিষয়গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর উদ্যোগ নিশ্চিত হয়, তবে আগামি দিনে দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও এর ভয়াবহতা কমে আসবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি। সড়ক দুর্ঘটনায় একের পর এক তাজা প্রাণ ঝরে যাবে, এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। ফলে দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ দ্রুত নিশ্চিত হবে, এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।