‘স্মার্ট সিটিজেনকে ধূমপানমুক্ত হতে হবে’

26

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মঙ্গলবার ধূমপান ও তামাকজাতদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন বিষয়ক জেলা টাস্কফোর্স কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক ও এই টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি এ কে এম গালিভ খাঁন বলেছেন, স্মার্ট বাংলাদেশের নাগরিকদের হতে হবে স্মার্ট। তাদের ধূমপানের কোনো সুযোগ নেই। তিনি সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্যবিভাগের মাঠকর্মীদের মাধ্যমে ধূমপানবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোয় ডিজিটাল সেন্টারে সচেতনামূলক লিফলেটগুলো রাখতে হবে। ধূমপান ও তামাকবিরোধী প্রচারণার সময় মাদক, বাল্যবিয়ে ও অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে ধূমপানমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হবে। পাবলিক প্লেসগুলো থেকে ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
সভায় আরো বক্তব্য দেনÑ স্থানীয় সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক ও এই কমিটির সদস্য দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও। তিনি নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সিভিল সার্জন ও কমিটির সদস্য সচিব ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ বলেনÑ বর্তমানে ই-সিগারেট চলছে। বলা হচ্ছে নিকোটিনমুক্ত। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে ই-সিগারেটেও নিকোটিন রয়েছে। সেই সঙ্গে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এর ধোঁয়া। তিনি ধূমপান ও তামাকজাতীয় দ্রব্যের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, ধূমপান ও তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবনের কারণে ক্যান্সারসহ নানান রোগ ব্যাধি হচ্ছে এবং মৃত্যুও হচ্ছে। ধূমপায়ীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
ঘর থেকে বের হলেই দেখা যায়, যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে ধূমপান করা হচ্ছে। তাদের দেখে কিশোররাও ধূমপানে আসক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় কিশোররা বেশি জড়িয়ে পড়ে। তাদেরকে রক্ষা করতে হবে। একটি সুস্থ সুন্দর জাতি গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। বক্তাদের আলোচনায় এমন তথ্য উঠে আসে।
সভায় আইনের দিকটি তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ আহমেদ। সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক আনিছুর রহমান খান; সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে কুলসুম; জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শফিকুল আলমসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।