‘স্মার্ট ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার আহ্বান জেলা প্রশাসকের’

30

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, নিরক্ষরতামুক্ত এবং তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান ভিত্তিক টেকসই, স্মার্ট ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন। শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান বিজয় দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডা. আ.আ.ম. মেসবাহুল হক বাচ্চু ডাক্তার স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বাণীতে তিনি আরো বলেন- দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা বহু প্রতীক্ষিত বিজয় অর্জন করি। এ অর্জন বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ অর্জন আমাদের এনে দিয়েছে একটি সার্বভৌম দেশ, স্বাধীন জাতিসত্তা, পবিত্র সংবিধান, নিজস্ব মানচিত্র ও লাল-সবুজ পতাকা। এ অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। ওই বাণীতে তিনি আরো বলেন-’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে বীজ রোপণ হয়েছিল দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা চড়াই- উৎরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে তা পূর্ণতা পায়। তাঁরই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ন’মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।
জেলা প্রশাসক তাঁর বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন-স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গৃহায়ন, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার ৫ লক্ষাধিক ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসিত করেছে। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে। বাস্তবায়িত হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০ টি বিশেষ উদ্যোগসহ মেট্রোরেল, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী বহুমুখী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পসমূহ। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব শুরু হয়েছে দেশে। ডিজিটাল পরিষেবা দেশের প্রতিটি কর্নারে পৌঁছে গেছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ অভিজাত স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য। উন্নয়নে এ ধারাকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন।
জেলা প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন- আসুন, আমরা মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগের শপথ গ্রহণ করি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত এবং তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান ভিত্তিক টেকসই, স্মার্ট ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলি।
জেলা প্রশাসক তাঁর বাণীর শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে আত্মৎস্বর্গকারী বীর শহিদদের, জাতীয় চার নেতাকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, যুদ্ধাহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে, যাঁরা স্বসাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন।
এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব।