স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জয় হবেই : বাইডেন

12

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘হিসাবে ভুল করেছেন’ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন; ইউক্রেইনে আক্রমণ করলে পশ্চিমাদের জবাব কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি ‘ভুল ধারণা’ করেছিলেন। গত মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে বাইডেন দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, স্বাধীনতার চেতনা সবসময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে। নেটো ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেইনের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানিয়ে রাশিয়ার নেতা পুতিনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, কোনো রকম উসকানি ছাড়াই রাশিয়া পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেইনে আক্রমণ চালিয়েছে।

আর সেজন্য কতটা মূল্য দিতে হবে, তার ‘কোনো ধারণাই পুতিনের নেই’। আগ্রাসী আচরণের জন্য যদি মূল্য দিতে না হয়, স্বৈরশাসকরা আরো বেশি বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। বিবিসি লিখেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই সম্ভবত বাইডেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ। বার্ষিক এ ভাষণে সাধারণত রাজনৈতিক বক্তব্য ও লক্ষ্য গুরুত্ব পায়, সে কারণে অনেক ক্ষেত্রেই প্রেসিডেন্টের দলের আইনপ্রণেতা ও সমর্থকরা এই ভাষণে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু এবারের ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সব সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টির আইন প্রণেতারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সামরিক বাহিনীর প্রধান, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারক, করপোরেট কোম্পানির নির্বাহী এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেইনের রাষ্ট্রদূত। ইউক্রেইনের পক্ষে বাইডেনের এই বক্তব্য কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টি- দুই পক্ষেরই সমর্থন পায় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার ভাষণে অভিযোগ করেন, পুতিনের এই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ‘আগেই নেওয়া’ এবং সব কূটনৈতিক উদ্যোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ভেবেছিলেন পশ্চিমা শক্তি এবং নেটো হয়ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। ভেবেছিলেন, এখানে (যুক্তরাষ্ট্রে), আমাদের ঘরেও তিনি আমাদের বিভক্ত করতে পারবেন। পুতিন ভুল ভেবেছিলেন। আমরা প্রস্তুত ছিলাম। বাইডেন জানান, তার দেশের আকাশসীমা রাশিয়ার উড়োজাহাজের জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডাও রাশিয়ার এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার কোনো ধারণাই নেই সামনে কী আসছে।

ভাষণের মাঝেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেইনের রাষ্ট্রদূত ওকসানা মারকারোভাকে স্বাগত জানান। দর্শকসারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের পাশেই বসেন রাষ্ট্রদূত মারকারোভা। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে যখন স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে রাশিয়া আর ইউক্রেইন নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে, মহামারীর ধাক্কা সামলে যুক্তরাষ্ট্র এখন মূল্যস্ফীতির তাপ কমাতে হিমশিম খাচ্ছে। জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা নেমে গেছে প্রায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পর্যায়ে। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস-এর জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মাত্র ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ তার কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বেকারত্বের হার ৪ শতাংশে নেমে এলেও মূল্যস্ফীতি গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দেশে অপরাধমূলক হত্যার হারও ২৫ বছরের মধ্যে শীর্ষে। জনমত জরিপ বলছে, করোনাভাইরাস মহামারীর এবং আফগানিস্তান সঙ্কট বাইডেন যেভাবে সামলেছেন, তাতে খুশি নন মার্কিন নাগরিকরা। স্টেট অব ইউনিয়নের ভাষণে এসব বিষয়েও বক্তব্য দিয়েছেন বাইডেন। তুলে ধরেছেন তার পরিকল্পনা। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রতি বাইডেন আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করেন; বিশেষ করে তার লাখ কোটি ডলারের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা যাতে তারা অনুমোদন করেন।

করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় সরকারের ‘সাফল্য’ তুলে ধরার পাশপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের জন্য আরও বেশি ‘টেস্ট কিট’ ও টিকা সরবরাহের পরিকল্পনা জানিয়েছেন বাইডেন। করোপোরেট কর বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, এই দেশের বিদ্যমান কর ব্যবস্থায় বৈষম্য বিরাজ করছে, যা সংস্কার করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দেশের পণ্য শতভাগ ব্যবহারের লক্ষ্যও তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ওষুধের দাম কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রে ইনটেল, ফোর্ড, জেনারেল মোটরসের মত বড় করপোরেশনগুলোর রেকর্ড বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথাও জো বাইডেন তার ভাষণে তুলে ধরেন।