স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন সারিকা

8

ঝলমলে শুরুর পর অভিনয় অথবা সংসার-ঠিক কোনোটাই দানা বাঁধছিল না সারিকার জীবনে। মাত্র ৯ মাস হলো নতুন বিয়ের ঘর, এরমধ্যেই এলো ভাঙনের শব্দ। শুধু কি ভাঙন? চলছে মামলা-হামলাও! যৌতুক দাবি ও মারধরের অভিযোগে সারিকা সাবরিন তার স্বামী জি এস বদরুদ্দিন আহমেদের (রাহী) বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন রাহী বরাবর! গত সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারাহ দিবা ছন্দার আদালতে সারিকা সাবরিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর মামলাটি আমলে নিয়ে বদরুদ্দিন আহমেদ রাহীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সারিকার আইনজীবী মাসুদুর রহমান মাসুদ বিষয়টি জানিয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে সারিকা ও বদরুদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়েতে ২০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। বিয়ের সময় সারিকার বাবা-মা বদরুদ্দিনকে ২৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকারসহ বাসার যাবতীয় আসবাবপত্র উপহার হিসেবে দেন। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই আসামি বদরুদ্দিন বাদী সারিকার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে তাকে মারধর করতে থাকে। গত ৫ নভেম্বর আসামি বদরুদ্দিন ভিকটিম সারিকার কাছে ৫০ লাখ টাকা যৌতুকের টাকা এনে দিতে বলে। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় সারিকাকে এক কাপড়ে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

এর আগে ১৯ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডিতে এ বিষয়ে এক সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে কথোপকথনের একপর্যায়ে আসামি বলেন ব্যবসার জন্য তাকে ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে। দাবি করা টাকা না দিলে সারিকার সঙ্গে সংসার করবে না এবং তাকে তালাক দিয়ে বেশি টাকা যৌতুক নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করবেন বলে দ্রুত চলে যান। তবে মামলার নথির বাইরে এ বিষয়ে সারিকার আলাদা কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সারিকা-বদরুদ্দিনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

২০০৬ সালে মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন সারিকা। শুরুতেই তারকা খ্যাতি পান। এরপর নাটক ও বিজ্ঞাপনে টানা কাজ করেন। ২০১৪ সালে মাহিম করিম নামে এক ব্যবসায়ী-প্রযোজককে বিয়ে করেন সারিকা। ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সেহরিশ আনায়া নামে সেই ঘরে এক কন্যাও রয়েছে। এরপর চলতি বছরের দুই ফেব্রুয়ারি ফের সংসারী হন সারিকা। পাশাপাশি নিয়মিত হন অভিনয়েও। তবে অভিনয়টা ঠিক চললেও সংসারে শুরু হলো ছন্দপতন।