স্বপ্ন নিজের ভেতরেই রাখতে চান আফিফ

71

09-afifবয়স সবে ১৭। এরইমধ্যে বাংলাদেশের ক্রিকেট আঙিনায় নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। পেয়েছেন সম্ভাবনাময় এক অলরাউন্ডারের তকমা। বিপিএলের মাধ্যমে এ তরুণকে চিনে গেছে পুরো বিশ্ব। বাঁ-হাতে ব্যাট করলেও ডান হাতে অফস্পিন করেন আফিফ। বিপিএলের পর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এ সহ-অধিনায়ক যুব এশিয়া কাপে ব্যাট-বলে জানান দিয়েছেন তার সামর্থের। চার ম্যাচে ১৪১ রান আসে এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের উইলো থেকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৪ বলে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর বল হাতে দুই উইকেট তুলে দলকে জয়ের পথে রাখেন আফিফ। কিন্তু শ্বাসরুদ্ধকর সে ম্যাচে শেষ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১৭ রানের জুটি গড়ে ২৩৩ রান টপকে ১ উইকেটের জয় তুলে নেয় পাকিস্তান। শেষ উইকেট ভাঙতে লড়াই চালানের আগেই আফিফের ১০ ওভারের কোটা শেষ। নইলে ম্যাচটা হয়তো বাংলাদেশেরই হতো!  হারের পরও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃষ্টি-আইনে ২৬ রানে হেরে যায় জুনিয়র টাইগাররা।
কলম্বোয় দিবারাত্রির ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৯৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬ রান আসে আফিফের ব্যাট থেকে। জবাবে শ্রীলঙ্কা ২৭.১ ওভারে ১০৬ রান তোলার পর বৃষ্টি শুরু হয়। পরে বৃষ্টি আইনে জয়ী ঘোষণা করা স্বাগতিকদের। ফাইনালে অবশ্য ভারতের কাছে ধরাশায়ী হয় লঙ্কান যুবারা। এশিয়ার তিন পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সাথে খেলে দারুণ অভিজ্ঞতাই অর্জন করেছে জুনিয়র টাইগাররা। ওদের সঙ্গে শক্তিতে খুব বেশি পার্থক্য দেখেন না আফিফ, ‘আমাদের মতো বাকিরাও দল হিসেবে নতুন। এশিয়া কাপের মাধ্যমে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সাথে খেলেছি। সবগুলো দলই শক্তিতে কাছাকাছি। ভালো একটা টুর্নামেন্ট ছিল। বিশ্বকাপের আগে এক বছর সময় পাব। এর মধ্যে প্রস্তুত হবো আমরা। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং বিচারে আমরা খারাপ দল না।’ আগামী বছরের জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অংশ নেবে আফিফরা। বিশ্বকাপে ভালো করতে এখন থেকেই প্রস্তুত হবে দল। বিশ্বকাপের আগে বাইরের দেশে গিয়ে কয়েকটা সিরিজ খেলতে পারলে ভালো হবে বলে জানান এ তরুণ। বিকেএসপিতে নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরি তাকে নিয়ে আসে বিপিএলের মঞ্চে। ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে দলে নেয় রাজশাহী কিংস। তবে, বিপিএলের অভিষেকে পাঁচ উইকেট তুলে সবাইকে চমকে দেন আফিফ। ক্রিস গেইলকে বোকা বানান ওই ম্যাচে। ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি সেদিন। তার আগেই দল জিতে যায়। রাজশাহীর হয়ে খেলতে আসা কিউই ক্রিকেটার জেমস ফ্র্যাঙ্কলিন সংবাদ সম্মেলনে জেনে তো অবাক। অমন বোলিংয়ের পর জানতে পারেন আফিফ মূলত ব্যাটসম্যান। কাঁধে হাত চাপড়ে দেন বিস্ময়ভরা চোখে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই বিস্ময় সৃষ্টি করা আফিফের সঙ্গে তুলনা চলে সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে। ব্যাটে-বলে সলিড এক অলরাউন্ডার। আফিফের স্বপ্ন কী তেমনই কিছু হওয়ার; নাকি তাদের ছাড়িয়ে যেতে চান? মুচকি হেসে বললেন, ‘স্বপ্ন নিজের ভেতরেই থাক। শুরুটা ভালো হয়েছে। এভাবে এগিয়ে যেতে পারলে ভালো কিছুই হবে। সাকিব-তামিম ভাইয়ের খেলা ভালো লাগে। তবে ওভাবে কাউকে অনুসরণ করি না। আমার খেলাটা নিয়েই আমি ভাবতে চাই।’