স্বপ্নের পদ্মা সেতু : ঝালকাঠি থেকে দূরত্ব কমছে ঢাকার

3

পদ্মা সেতুর কারণে ঝালকাঠি থেকে ঢাকার দূরত্ব কমছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে ঝালকাঠির মানুষ দৌলতদিয়া থেকে পদ্মা পাড়ি দিয়ে আরিচা হয়ে ঢাকা যেত। নব্বই দশক থেকে কাওড়াকান্দি-মাওয়া হয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঝালকাঠির মানুষ ঢাকার সায়েদাবাদ যাওয়া শুরু করে। তখন এ রুটে ফেরি ছিল সাতটি। আর এখন কোনো ফেরিই থাকছে না।
স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন গণনার সাথে সাথে উপকূলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঝালকাঠি জেলার পরিবহন ব্যবসায়ী বাস শ্রমিকদের মধ্যে নতুন আশার দেখা দিয়েছে। ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতিতে প্রায় ১০০ বাস রয়েছে। এ বাসগুলো নিয়মিত ঝালকাঠি-বরিশাল রুটে চলাচল করে। এ রুটের দূরত্ব মাত্র ১৭ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু চালু হলে ঝালকাঠি থেকে সরাসরি ঢাকা রুটে বাস চলাচল করবে। এতে মালিকদের পাশাপাশি লাভবান হবেন শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন বেকার থাকা বাস শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
ঝালকাঠি জেলা সদর থেকে লঞ্চ বা বাসযোগে ঢাকা পৌঁছাতে সময় লাগত ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা । আবার কখনো ফেরিঘাটে যানজটের কারণে সময় লেগে যেত ১৮-২০ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল শুরু হলে মাত্র সাড়ে ৩-৪ ঘণ্টায় পৌঁছানো যাবে ঢাকা।
ঝালকাঠি পৌর মেয়র ও জেলা বাস মালিক সমিতির সহসভাপতি মো. লিয়াকত আলী তালুকদার বলেনÑ আমার বয়স বর্তমানে প্রায় ৭৬ বছর। ১২ বছর বয়স থেকে ঢাকা আসা-যাওয়া করি। আমি কল্পনাও করিনি পদ্মা নদীর ওপর দিয়ে গাড়িতে করে ঢাকা যাবো। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতায় আজ যা স্বপ্নেও দেখি নাই, তা বাস্তবে হতে যাচ্ছে ২৫ জুন।
জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন মাহমুদ বাচ্চু বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঝালকাঠি জেলার সাধারণ মানুষের সাথে এ জেলার বাসমালিকরাও উপকৃত হবে। এখন আমাদের বাসগুলো শুধু লোকাল যাত্রী পরিবহন করে। সেতু চালু হওয়ার পর আমাদের সমিতির বাস ঢাকার পথেও যাত্রী পরিবহন করবে। এতে আমাদের মালিকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে। ঢাকা-ঝালকাঠি রুটে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। রাতদিন ঢাকার পথে মানুষ আসা যাওয়া করবে। সে কারণে বাসের চাহিদা বাড়বে। তিনি বলেন, নতুন নতুন বিনিয়োগকারীরা যাত্রী পরিবহন খাতে অর্থ বিনিয়োগ করবে। বাস শ্রমিকদের বেকারত্ব দূর হবে। ঝালকাঠিবাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ভোর ৫টায় বাস ছেড়ে সকাল সাড়ে ৯-১০টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছানো যাবে। ঢাকায় যাত্রী নামিয়ে আবার দুপুরের মধ্যে যাত্রী নিয়ে রাতে বা সন্ধ্যায় বাসগুলো ঝালকাঠি ফিরে আসতে পারবে। এতে ঝালকাঠির যাত্রী, বাস মালিক এবং শ্রমিক সবাই লাভবান হবেন। শ্রমিক এবং মালিকদের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
ঝালকাঠি সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহাদুর চৌধুরী বলেনÑ স্বপ্নের সেতু পদ্মা সেতু চালু হলে ঝালকাঠি জেলার বাস শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পাবে। এখন ঝালকাঠির শ্রমিকরা শুধু দিনের বেলা ডিউটি করে থাকে। কারণ রাতের বেলা আমাদের বাসগুলো বন্ধ থাকে। সেতু চালু হলে আমাদের রুটের বাসগুলো রাতেও ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে। সেতু চালু হলে সড়কপথে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পরিবহনের খরচ কমবে, যার ফলে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমবে বলে আশা করা যায়। সেতুর কারণে ঝালকাঠি বাস টার্মিনালের পরিধি বৃদ্ধি পাবে। বাস টার্মিনালের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্প্রসারণ ঘটবে।