স্থানীয় গরু-ছাগলেই মিটবে কোরবানির চাহিদা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জমে উঠেছে বেচাকেনা

17

সারা মুসলিম বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আশায় মুসলিম উম্মাহ প্রতিবছর গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ কোরবানি দিয়ে থাকেন। চাঁপইনবাবগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। এবারো মানুষ যে যার মতো করে প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন কোরবানির জন্য গরু, ছাগল কেনার। কেউ কেউ আবার ভেড়াও কোরবানি দিয়ে থাকেন।
জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে ভারতীয় গরু বাজারে থাকলেও এবার বিটখাটাল বন্ধ থাকায় তা নেই। এবার খামারিদের পালা গবাদিপশুতেই চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে বলে জানা গেছে। প্রতিবছরের মতো এবারো জেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বহু ছোট-বড় খামারি গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া ও গাড়ল পেলেছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পরিসংখ্যান মতে, জেলায় এবার সব মিলিয়ে ৮৮ হাজার ৪৭৬টি ষাঁড়, বলদ ও মহিষ রয়েছে। অপরদিকে ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৭৭ হাজার ১৩৯টি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এবার জেলায় সবমিলিয়ে কোরবানির গরু ছাগল মিলিয়ে চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৩টি। এর বিপরীতে লালন পালন করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৫টি। উদ্বৃত্ত থাকছে ৫২ হাজার ২২২টি। তবে এর মধ্যে বেশ কিছু গরু-ছাগল জেলার বাইরে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিক্রি করবেন খামারিরা। তিনি আরো জানান, এবার জেলায় কোরবানিকে সামনে রেখে খামারিরা ষাঁড় পেলেছেন ৩৩ হাজার ৩৩১টি, বলদ ২৯ হাজার ৪৪৭টি, গাভী ২৫ হাজার ৫২২টি। এছাড়া মহিষ পালা হয়েছে ১৭৬টি। অন্যদিকে ছাগল পালা হয়েছে ৬৮ হাজার ৭২টি এবং ভেড়া ৯ হাজার ৬৭টি।
এদিকে জেলার পশুহাটগুলোতে চলছে কোরবানির গরু-ছাগল বেচাকেনার ধুম। বিক্রেতারা দূর-দূরান্ত থেকে কোরবানির পশু নিয়ে হাটগুলোয় আসছেন। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতারাও ভিড় করছেন হাটগুলোয়।  শুক্রবার জেলা শহরের বটতলা হাটে দেখা যায় কোরবানির পশুতে হাট ভর্তি হয়ে গেছে। ক্রেতা সমাগমও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে দাম বেশি হওয়ায় সামনের হাটবারে কেনার জন্য অনেক ক্রেতা ফিরে গেছেন। সব মিলিয়ে বেচা কেনা জমে উঠেছে বলে ক্রেতা বিক্রেতারা জানিয়েছেন।
ভোলাহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আসছে ঈদুল আজহাকে ঘিরে ভোলাহাটে চাহিদার অতিরিক্ত গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ১ হাজার ৩০টি খামারে ২ হাজার ৪৫টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। এছাড়া ৪১৩টি বলদ, ২ হাজার ৬৮২টি গাভী, ৪টি মহিষ, ছাগল ৬ হাজার ৯৫৮টি, ভেড়া ৯৯৭টিসহ সর্বমোট ১৩ হাজার ৯৯টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ভোলাহাট উপজেলায় মোট উৎপাদনের গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৮ হাজার ৫৫০টি এবং অতিরিক্ত থাকবে ৪ হাজার ৫৪৯টি।
এদিকে গবাদিপশুর উৎপাদন বেশি হলেও বাজারে গিয়ে উচ্চদামের কারণে অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, যথাযথ দাম না পাওয়ায় বাড়ি নিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের পশু। তবে ভোলাহাট উপজেলার একমাত্র গোহালবাড়ী হাট রবিবার ও বৃহস্পতিবার (সপ্তাহে দুই দিন) গবাদিপশু ক্রয় বিক্রয় হয়। এ হাটের ইজারাদার কাউসার আলী বলছেন, ঈদ যত এগিয়ে আসছে গবাদিপশু তত বেশি কেনাবেচা বাড়ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ জানান, ঈদুল আজহার জন্য ভোলাহাটে চাহিদার অতিরিক্ত গবাদিপশু উৎপাদন হয়েছে। সাড়ে চার হাজার গবাদিপশু চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয়ভাবে গবাদিপশু সংকট হবে না বলে নিশ্চিত করেন তিনি।