সেল্টিককে উড়িয়ে দিয়ে রিয়ালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিশন শুরু

5

বড় জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের মিশন শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয়ার্ধের তিন গোলে কাল স্কটিশ চ্যাম্পিয়ন সেল্টিককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছে স্পেনের দলটি। প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে ইনজুরির কারণে দলের তারকা স্ট্রাইকার করিম বেনজেমাকে হারিয়ে রিয়াল কিছুটা হলেও দু:শ্চিন্তায় পড়েছিল রিয়াল। হাঁটুর ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফ্রেঞ্চম্যান বেনজেমা। যদিও পরবর্তীতে বেনজেমার ইনজুরি সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।

তবে ধারনা করা হচ্ছে ইনজুরির মাত্রা ততটা গুরুতর নয়। সেল্টিক অধিনায়ক কালুম ম্যাকগ্রিগরের শট পোস্টে না লাগলে তখনই হয়ত এগিয়ে যেতে পারতো স্বাগতিকরা। বেনজেমার অনুপস্থিতিতে আক্রমনভাগের হাল ধরেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ৫৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান তরুণ। লুকা মড্রিচের গোলে দ্রুতই ব্যবধান দ্বিগুন হয়। কার্লো আনচেলত্তির দলের শতভাগ সফল শুরুর আরেক নায়ক এডেন হ্যাজার্ড।
এসি মিলানের কোচ হিসেবে সেল্টিক পার্কের আগের তিন সফরে একবারও জিততে পারেননি আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘এখানে যেকোন দলই কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়ে থাকে। এই দলের বিপক্ষে, এই পরিবেশে খেলাটা সত্যিই কঠিন ছিল। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমরা খেলতেই পারিনি। দ্বিতীয়ার্ধে দল ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে। আমি দারুন সন্তুষ্ট। ম্যাচ সবসময় পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না। কিন্তু এই দলটি জানে বাজে মুহূর্ত থেকে কিভাবে ম্যাচে ফিরে আসতে হয়। দ্বিতীয়ার্ধ ছিল দুর্দান্ত।’

এবারের মৌসুমে শতভাগ রেকর্ড নিয়ে কাল মাঠে নেমেছিল সেল্টিক। শনিবার নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইউরোপা লিগের ফাইনালিস্ট রেঞ্জার্সকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করার মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রস্তুতিটাও দারুনভাবে সেড়ে রেখেছিল স্কটিশ চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে পোস্তেকগ্লুর দল ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে হলে মানসিক ভাবেও যে শক্তিশালী হতে হয় তার শিক্ষা ভালমতই পেল। এ সম্পর্কে সেল্টিকের কোচ বলেছেন, ‘প্রথম ৬০ মিনিট আমরা ম্যাচেই ছিলাম। কিন্তু এই পর্যায়ে খেলতে আসলে প্রতিপক্ষকে কোনভাবেই সুযোগ দেয়া যাবেনা। তাদের প্রতিটি গোলেই আমরা সুযোগ করে দিয়েছি। আমাদেরও সুযোগ এসেছিল। আজকের এই ম্যাচ থেকে আমরা যথেষ্ঠ শিক্ষা পেয়েছি।’ ম্যাচের প্রথম মিনিটেই লিয়েল আবাডার শট ডিফ্লেকটেড হয়ে অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে ৬০ হাজার উচ্ছ্বসিত স্বাগতিক সমর্থককে হতাশ হতে হয়।

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শুরু থেকেই পোস্তেকগ্লুর আক্রমনাত্মক মনোভাব বজায় ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আরো একবার আবাডার শট সরাসরি থিবো কোর্তোয়ার হাতে ধরা পড়ে। ২০ মিনিটে ম্যাকগ্রিগরের শট পোস্টে লাগলে আবারো হতাশ হয় স্বাগতিক শিবির। লিভারপুলের বিপক্ষে গত আসরের ফাইনালে যে সেরা একাদশ নিয়ে আনচেলত্তি মাঠে নেমেছিলেন তার মধ্যে ১০জনই কাল মূল দলে ছিল। শুধুমাত্র কাসেমিরোর পরিবর্তে মাঠে নেমেছিলেন ৮০ মিলিয়ন ইউরোতে দলে আসা অরিলিয়েন টিচুয়ামেনি। কিন্তু ৩০ মিনিটে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়া বেনজেমার পরিবর্তে হ্যাজার্ডকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন আনচেলত্তি। যদিও প্রাথমিক ভাবে বেনজেমার ইনজুরির মাত্রা ততটা গুরুতর নয় বলে আশ্বস্ত করেছেন আনচেলত্তি।

দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রন নিজেদের করে নেন মড্রিচ ও টনি ক্রুস। এর আগে অফসাইড ট্র্যাপ কাটিয়ে ভিনিসিয়াসের একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন সেল্টিক গোলরক্ষক জো হার্ট। ৫৬ মিনিটে অবশ্য আর ভুল করেননি এই ব্রাজিলিয়ান। ফেডেরিকো ভালভার্দের ক্রস থেকে কোনাকুনি শটে ভিনিসিয়াস রিয়ালকে এগিয়ে দেন। ৬০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন মড্রিচ। ৭৭ মিনিটে দানি কারভাহালের নিখুঁত পাস থেকে বেলজিয়ান অধিনায়ক হ্যাজার্ড রিয়ালের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন। জানুয়ারির পর রিয়ালের জার্সি গায়ে এটাই হ্যাজার্ডের প্রথম গোল।