সেলাইমেশিনের শব্দে ভরপুর গোমস্তাপুর

15

আল-মামুন বিশ্বাস

সারা বছরই টুকটাক কাজ থাকলেও পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ব্যস্ততা বাড়ে পোশাক তৈরির কারিগর বা শ্রমিকদের। এ সময়টাতে যেন দম ফেলার ফুরসতটুকুও পান না তারা। এ চিত্র গোটা দেশেরই। বাদ নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পোশাক শ্রমিকরা।
ঈদুল ফিতরের মাত্র আর ক’টা দিন বাকি। চাঁদ রাতের মধ্যেই সব অর্ডার সরবরাহ করতে হবে তাদের। তাই দিন-রাত এক করে একাগ্রচিত্তে কাজ করে চলেছেন এখানকার পোশাক শ্রমিকরা। প্রতিটি দোকানে একই অবস্থা। কান পাতলেই সেলাইমেশিনের শব্দ ছাড়া অন্য কোনো শব্দ ভাসে না।
গত দুই বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে দোকান বন্ধ থাকায় পোশাক তৈরির কাজ তেমন ভালো হয়নি। পোশাক শ্রমিকরা আশা করছেন, ওই দুই বছরের ঘাটতি এবার তারা পুষিয়ে নিতে পারবেন। এবার প্রচুর পরিমাণে অর্ডারও পেয়েছেন।
গোমস্তাপুর উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার হাটবাজারে দর্জি দোকানগুলোয় সাজ সাজ রব। রোজা শুরুর আগে থেকেই অর্ডার আসতে থাকায় শ্রমিকরা পুরোদমে কাজ করছেন। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় গভীর রাত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। অনেক দোকানদার অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিলেও, কেউ কেউ আবার নিচ্ছেন। এতে ক্রেতাদের পোশাক সময়মতো সরবরাহ করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন দোকানদাররা। তারপরও দিনরাত সেলাইমেশিনের শব্দে চারদিক মুখরিত।
এদিকে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, মজুরি বেশি নিচ্ছেন দোকানদাররা। রহনপুর বড়বাজারে আসা এক নারী বলেন, রোজার শুরুর দিকে গার্মেন্টেসের দোকানে পরিবারসহ ছেলেমেয়েদের ঈদের পোশাক কিনে নেয়া হয়েছে। তবে পরিবারের এক সদস্য লেখাপড়ার জন্য বাইরে থাকায় তার কোনো পোশাক কেনা হয়নি। তার পছন্দমত কাপড় কিনে দর্জি দোকানে এসেছি। তবে কেউ অর্ডার নিতে চাচ্ছেন না। পরিচিত একটি দোকানে দিয়েছি। ঈদের মধ্যে দেয়ার চেষ্টা করবে বলে তিনি জানান।
রহনপুর বাজারে নারীদের পোশাক তৈরি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নাজির হোসেন বলেন, দুই বছর ঈদের সময় করোনার কারণে দোকান বন্ধ ছিল, তেমন ব্যবসা হয়নি। এবার পোশাক তৈরিতে ছোট-বড় মেয়েদের কাজের চাপ বেশি। চেষ্টা করছি সকলকেই ঈদের আগে পোশাক ডেলিভারি দেয়ার।
আরেক প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুস সালাম বলেন, তিনি ছেলেদের শার্ট-প্যান্ট, পাঞ্জাবি, জামা তৈরি করছেন। তিনি জানান, ফজরের নামাজ পড়ে দোকান খুলেন, বাড়ি ফিরেন গভীর রাতে। ক্রেতাদের সময়মত পোশাক সরবরাহ করতে পারায় তার লক্ষ্য। গত দুই বছর তেমন মুনাফা না হলেও এবার পুষিয়ে নিবেন বলে জানান তিনি।