সেভিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয় পেল ম্যানচেস্টার সিটি

1

আর্লিং হালান্ড ছাড়া ম্যানচেস্টার সিটিকে কাল সেভিয়ার বিপক্ষে জয়ী হতে কোন বেগ পেতে হয়নি। জুলিয়ান আলভারেজের অসাধারণ নৈপুন্যে বুধবার সেভিয়াকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। পায়ের ইনজুরির কারণে কালও ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা দলে পায়নি দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড হালান্ডকে। এই ম্যাচের আগেই অবশ্য সিটির গ্রুপ-জি’র শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। যে কারণে কালকের ম্যাচে কেভিন ডি ব্রুইনা, রড্রি, বার্নান্ডো সিলভা ও হুয়াও ক্যান্সেলোকে বদলী বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সাহস দেখিয়েছিলেন সিটি পস পেপ গার্দিওলা। পরিবর্তিত দলটি রাফা মিরের গোলে বিরতির সময় ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু ১৭ বছর বয়সী রিকো লুইস অভিষেকেই সিটিকে সমতায় ফেরান।

এরপর ডি ব্রুইনার এ্যাসিস্টে আলভারেজ ৭৩ মিনিটে সিটিকে এগিয়ে দেন। এবারের মৌসুমে এটি আলভারেজের চতুর্থ গোল। আর্জেন্টাইন এই এ্যাটাকার ম্যাচ শেষের ৭ মিনিট আগে রিয়াদ মাহারেজকে দিয়ে তৃতীয় গোলটি করিয়েছেন। এই জয়ে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের থেকে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান লাভ করেছেন সিটিজেনরা। তৃতীয় হয়ে ইউরোপা লিগে নেমে গেছে সেভিয়া। ম্যাচ শেষে গার্দিওলা বলেছেন, ‘আজকের রাতটা পুরোটাই জুলিয়ানের ছিল। কারণ সে এক গোল করা ছাড়াও দুটি এ্যাসিস্টও করেছে। আমরা তার দক্ষতা সম্পর্কে জানি। আজ সে তার সেরাটাই দিয়েছে।’ এর আগে সেপ্টেম্বরে দুই দল যখন মুখোমুখি হয়েছি তখন হালান্ড ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। এই নরওয়েজিয়ান তরুনের অনুপস্থিতিতে সিটি তার শুরুর দাপট ধওে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। গত পাঁচ ম্যাচে সিটিজেনরা মাত্র চার গোল করেছে।

প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়নরা কাল ম্যাচের আধিপত্য ধরে রাখলেও প্রথমার্ধে গোল হজম করে কিছুটা হলেও বিপাকে পড়ে। ইকে গুনডোগানের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। লা লিগায় রেলিগেশন জোনে থাকা সেভিয়া কাল কিছুটা হলেও দু:স্বপ্ন কাটিয়ে জেগে ওঠার চেষ্টা করেছিল। এই ম্যাচ শুরুর আগে জর্জ সাম্পওলির দল তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইউরোপা লিগে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু ইতিহাদে স্টেডিয়ামে কাল প্রথমার্ধটা ভালই খেলেছে সাম্পাওলির দল। স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মির গোল করে দলকে এগিয়ে দেবার আগে আরো একটি শট নিয়েছিলেন যা প্রতিহত করেন সিটির গোলরক্ষক স্টিফান ওরটেগা।

৩১ মিনিটে ইসকোন কর্ণার থেকে মিরের শক্তিশালী হেড আর ধরার সাধ্য ছিলনা ওরটেগার। বিরতির পর ম্যাচে ফিরে আসার লক্ষ্যে গার্দিওলা মাঠে নামান রড্রি ও জ্যাক গ্রীলিশকে। গত বুধবার মূল একাদশে অভিষেক হবার আগে লুইস চারটি ম্যাচে বদলী হিসেবে ৬৮ মিনিট মাঠে ছিলেন। আলভারেজের দারুন এক পাসে ঠান্ডা মাথায় এই ইংলিশ রাইট-ব্যাক বোনোকে পরাস্ত করলে সিটি সমতায় ফিরে। শেষ ২০ মিনিটে মাঠে নামেন ডি ব্রুইনা। মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যেই তিনি গোলের যোগান দেন। সেভিয়া রক্ষনভাগকে পিছনে ফেলে তার বাড়িয়ে দেয়া পাসে আলভারেজ ৭৩ মিনিটে সিটিকে এগিয়ে দেন। ১০ মিনিট পর আলভারেজের পাসে মাহারেজ গোল করলে সিটির বড় জয় নিশ্চিত হয়।