সেবার মান বৃদ্ধি করে মানুষকে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে : জেলা প্রশাসক

137

DSC07455 (Small)
শাসকের মনোভাব ত্যাগ করে সেবকের ভূমিকায় থেকে জনসাধারণকে সেবা দিতে হবে। সেবার মান বৃদ্ধি করে সঞ্চয় করতে জনসাধরণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মানুষ যেখানে ভালো সেবা পাবে সেখানেই যাবে। গতকাল শনিবার সঞ্চয় সপ্তাহের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁপইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম কথা গুলো বলেন। জেলা সঞ্চয় কর্মকর্তা ওয়াসিম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলাদেশ গড়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এই কাজে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। সকল ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জেলাবাসীকে সঞ্চয়ের আহবান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন-একদিন হয়ত আমরা থাকবো না। কিন্তু থেকে যাবে আমাদের কর্মকান্ড। মহান স্বাধীনতার যে স্বপ্ন আমাদের মধ্যে ছিল তার বাস্তবায়ন করার এখনই সময়। এখন চাকরীর ক্ষেত্রে একটা অনিশ্চযতা কাজ করে কিন্তু এমন একদিন আসবে যখন আমাদের ছেলে মেয়েদের চাকীর জন্য বাবা মাকে ভাবতে হবে না। সরকারি নিয়মের মধ্যেই তারা চাকরী পাবে। তিনি আবারও সেবার মান বৃদ্ধি করে জনমুখি করার জন্য সঞ্চয় অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহবান জানান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহীদ উদ্দিন আল হাসান, সঞ্চকারী আব্দুল হান্নান, রুহুল আমিন প্রমুখ।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। “সঞ্চয় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার প্রতীক” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ৪ জুন থেকে সঞ্চয় সপ্তাহ-২০১৬ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সঞ্চয় অফিস/ব্যুরো এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
জেলা সঞ্চয় কর্মকর্তা ওয়াসিম আহমেদ জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোসহ আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সঞ্চয় পত্রে বিনিয়োগ কারীর সংখ্যা বাড়ছে। নিরাপদ মনে করায়, সঞ্চয় পত্র কেনার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ। উত্তরের ১৬ জেলার মধ্যে সবচেয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেশি এই জেলায়। গেল ২০১৪-১৫ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বলছে, লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুন সঞ্চয়পত্র কিনেছেন এ জেলার অধিবাসীরা। এই অর্থবছরে এই জেলায় সরকারি সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৭ কোটি টাকার। তবে বিক্রি হয়েছে দিগুনেরও বেশি ৩৭ কোটি ৮৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা সমমূল্যের সঞ্চয়পত্র। চলতি বছরেও সঞ্চয় পত্রে বিনিয়োগে একই ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্র ছিলো ২৯ কোটি টাকা, সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ হয়েছে ৪২ কোটি টাকার উপরে। নারীরা সঞ্চয় পত্রে বিনিয়োগে এগিয়ে আছেন, তাই বিক্রি বেশি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র তিনি জানান।