সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর রাষ্ট্রপতির গুরুত্বারোপ

109

captureসেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, সামরিক জীবনে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নাই। প্রশিক্ষণ সকলকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখে, পেশাগত জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, দক্ষতা বাড়ায় এবং সর্বোপরি আনুগত্য বাড়ায়। তাই আপনাদেরকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে। বৃহস্পতিবার গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে অর্ডন্যান্স সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে আর্মি অর্ডন্যান্স কোরের ষষ্ঠ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। অর্ডন্যান্স সেন্টার অ্যান্ড স্কুলকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদুল হামিদ বলেন, অর্ডন্যান্স সেন্টার অ্যান্ড স্কুল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে প্রতিবছর বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রসমূহের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন। তাই প্রশিক্ষণের মান অবশ্যই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হতে হবে, যাতে দেশ ও বিদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণকে অগ্রাধিকার দেয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি জেনে খুশি হয়েছি যে, অর্ডন্যান্স সেন্টার অ্যান্ড স্কুল বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্ডন্যান্স কোরের জন্য চৌকস সেনাসদস্য প্রস্তত করে চলেছে। একজন অসামরিক যুবককে কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবদান প্রশংসনীয়। বক্তৃতা দেওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি আর্টিলারি কোরের প্যারেড পরিদর্শন এবং কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। অর্ডন্যান্স কোরের কাজের প্রশংসা করে আবদুল হামিদ বলেন, প্রতিষ্ঠা লগ্ন হতে অর্ডন্যান্স কোর জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সেনাবাহিনীকে পরিপূর্ণরূপে সমরসজ্জিত করার গুরু দায়িত্ব অর্ডন্যান্স কোরের উপর ন্যাস্ত। শুধু সেনাবাহিনী নয়, অর্ডন্যান্স কোর বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং বাংলাদেশ আনসারের বিবিধ প্রয়োজনীয় দ্রব্য, বিশেষ করে গোলাবারুদের চাহিদা মিটিয়ে থাকে। গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকের উপর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কোরের সদস্যরা সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি দমন অভিযানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অপরিহার্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও অর্ডন্যান্স কোরের সদস্যদের রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে রাজেন্দ্রপুর পৌঁছান। তিনি প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে সেনা প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক তাকে স্বাগত জানান।