সুস্বাস্থ্যে দুধের উপকারিতা

202

04যদিও দুধ সবচেয়ে পুষ্টিকর পানীয় তারপরও অনেকেই দুধের স্বাদ পছন্দ করেন না। অস্বীকার করার উপায় নেই যে দুধ শুধু শিশুদের জন্যই নয়, পূর্ণবয়স্কদের জন্যও অনেক উপকারী। বিভিন্ন গবেষণায় দুধকে পুষ্টির উৎস হিসেবেই দেখানো হয়েছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের ফ্রেশম্যানস ভেলী এর পুষ্টিবিদ এবং জ্যেষ্ঠ ডায়েটেশিয়ান তানিয়া যোশী ইন্ডিয়া টাইমসকে ব্যাখ্যা করে বলেন কেন সকলেরই দুধ গ্রহণ করা উচিৎ। দুধকে হ্যাঁ বলার কারণগুলো জেনে নিই চলুন।

১। স্বাস্থ্যবান হাড়
হাড়ের গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ ক্যালসিয়ামের একটি বড় উৎস হচ্ছে দুধ। একটি গবেষণা মতে, যে শিশুরা নিয়মিত দুধ পান করে তাদের শারীরিক ফিটনেস বয়স্ক অবস্থাতেও অক্ষুণ্ণ থাকে। তর”ণ এবং বয়স্ক নারীদের হাড়কে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে দুধ, ফলে অষ্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ হয়। এছাড়াও দুধ হচ্ছে ভিটামিন ডি এর সবচেয়ে ভালো উৎস। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়ামের শোষণের জন্য প্রয়োজনীয়, হাড়ের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে এবং প্রদাহের ঝুঁকি কমায়।

২। শক্তিশালী দাঁত
দুধের ক্যালসিয়াম দাঁতের গঠনের জন্য গুর”ত্বপূর্ণ। শিশুদের দুধ পান করতে উৎসাহিত করা তাদের জন্য ভালো একটি অভ্যাস। এটি দাঁতে ছিদ্র হতে বাধা দেয় এবং দাঁতক্ষয়ের বির”দ্ধে যুদ্ধ করে। দুধ পান করলে এনার্জি পাওয়ার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর কোমল পানীয় পান করার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করবে। দুধ পান করা লালার গঠনকে উদ্দীপিত করে এবং দাঁতে প্লাক হতে বাধা দেয়।

৩। ওজন নিয়ন্ত্রণ
বিভিন্ন গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, দুধ পান করলে ওজন কমতে সাহায্য করে। যে নারীরা কম চর্বির দুধ বা পাস্তুরিত দুধ পান করেন তাদের ওজন অনেক বেশি কমে, যারা তাদের খাদ্যতালিকা থেকে দুধ বাদ দিয়েছেন তাদের তুলনায়। এর কারণ মূলত দুধে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের মত বহুবিধ পুষ্টি উপাদান থাকে অত্যধিক স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা ক্যালোরি ছাড়াই। এক গ্লাস দুধ একটি সম্পূর্ণ খাবারের মতোই যাতে ক্যালোরির পরিমাণ থাকে অর্ধেক।

৪। শরীরকে রিহাইড্রেট করে
শিশু ও তর”ণীরা নিয়মিতই সক্রিয় থাকে বলে তাদের হাইড্রেটেড থাকাটা গুর”ত্বপূর্ণ। দুধে ভালো পরিমাণে পানি থাকে বলে শরীরকে হাইড্রেটেড থাকতে সাহায্য করে।

৫। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়
আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে এবং দুধে অ্যালার্জির সমস্যা না হয় তাহলে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করলে আপনার পেট পরিষ্কার হতে সাহায্য করবে।

৬। প্রিমেনসট্রুয়াল সিনড্রোম লাঘব করে
একটি গবেষণা মতে, তরুণী এবং নারীদের মধ্যে যারা উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি গ্রহণ করে তাদের পিএমএস হওয়ার সম্ভাবনা কমে। দুধ ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি এর নিরাপদ উৎস। বেশি করে দুধ পান করলে পেট ফাঁপার সমস্যা ও ক্ষুধা কমে।

৭। স্ট্রেস কমায়
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ মুক্ত হতে সাহায্য করে দুধ পান করা। অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন ও মিনারেল যা দুধে পাওয়া যায় তা আপনাকে স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী থাকতে এবং স্ট্রেস মুক্ত হতে সাহায্য করে। স্ট্রেস মুক্ত থাকতে রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ পান কর”ন।