সুপার কাপ জিতে রিয়ালের মৌসুম শুরু

3

ভিনিসিউস জুনিয়রের পাস, করিম বেনজেমার শট, জালে জড়াল বল-গত মৌসুমের এমন চেনা দৃশ্যের দেখা মিলল আবারও। ইউরোপ সেরা রিয়াল মাদ্রিদ নতুন মৌসুমের শুরুটাও করল শিরোপা জয়ের উল্লাসে। আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতল কার্লো আনচেলত্তির দল। ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে বুধবার রাতে জার্মান ক্লাবটিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ীদের অন্য গোলটি করেন দাভিদ আলাবা। মৌসুমের শুরুতে আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপা লিগ জয়ীর মধ্যে হয়ে থাকে এক ম্যাচের এই শিরোপা লড়াই। এই নিয়ে পঞ্চমবার ট্রফিটি জিতল রিয়াল।

আর এ বছরে তাদের এটা চতুর্থ শিরোপা; জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পর তারা ঘরে তোলে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ম্যাচ শুরুর আগে রিয়ালের ২০২১-২২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের দুই নায়ক করিম বেনজেমা আসরের বর্ষসেরা খেলোয়াড় ও ভিনিসিউস জুনিয়র তরুণ বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে ক্যামেরাবন্দি হন। এরপর সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর শুরু হয় মাঠের লড়াই। ম্যাচের শুরু থেকে রিয়াল প্রত্যাশিতভাবেই বল দখলে আধিপত্য করে; কিন্তু আক্রমণে সুবিধা করতে পারছিল না তারা। প্রথম ১৫ মিনিটে গোলের উদ্দেশ্যে কোনো শট নিতে পারেনি তারা। উল্টো চতুদর্শ মিনিটে মুহুর্তের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে তাদের রক্ষণ। সেই সুযোগে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান দাইচি কামাদা। সময় নিয়ে তার নেওয়া জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে ৯টি অসাধারণ সেভ করা থিবো কোর্তোয়া। প্রতিপক্ষের অমন ভীতি ছড়ানো আক্রমণের পর রিয়ালও যেন পথ খুঁজে পায়।

তিন মিনিট পর ডি-বক্সে বল পেয়ে গোলরক্ষক কেভিন ট্রাপের বাঁ পাশ দিয়ে শট নেন ভিনিসিউস; শেষ মুহূর্তে ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার তুতা। ৩৭তম মিনিটে বেনজেমা ও ভিনিসিউসের বোঝাপাড়ায় আরেকটি ভালো সুযোগ পায় রিয়াল। এ যাত্রায় ফরাসি তারকার পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে জোরাল কোনাকুনি শট নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ঝাঁপিয়ে কোনোমতে হাত ছুঁয়ে বল বাইরে পাঠান জার্মান গোলরক্ষক। ওই কর্নার থেকেই এগিয়ে যায় রিয়াল। টনি ক্রুসের কর্নারে হেড করেন বেনজেমা, বল চলে যাচ্ছিল বাইরে, কোনোমতে লাফিয়ে হেডেই বল গোলমুখে ফেরত পাঠান কাসেমিরো। পায়ে বল পেয়ে অনায়াসে বাকি কাজ সারেন আলাবা।

৪১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পান বেনজেমা। তবে ডি-বক্সের মুখে বিনা বাধায় বল ধরে লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি গত মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে সব মিলিয়ে ৪৪ গোল করা এই স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধের শেষ ভাগে জেগে ওঠা রিয়াল বিরতির পরও চাপ ধরে রাখে। ৫৫তম মিনিটে ১০ গজ দূর থেকে ভিনিসিউসের শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। ছয় মিনিট পর কাসেমিরোর দূর থেকে নেওয়া শট বাধা পায় ক্রসবারে। ৬৫তম মিনিটে মেলে দ্বিতীয় গোলের দেখা। বাঁ দিক থেকে ভিনিসিউসের পাস ডি-বক্সের মুখে পেয়ে নিচু শট নেন বেনজেমা। ট্রাপ ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও পারেননি রুখতে। তাতে জয়টাও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় রিয়ালের। রিয়ালের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বেনজেমার এটা ৩২৪তম গোল।

ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় পেছনে ফেললেন সাবেক তারকা রাউল গনসালেসকে। বেনজেমার ওপরে এখন কেবল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ৪৫০ গোল নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে। রিয়ালের হয়ে গত মৌসুমে বেনজেমা ও ভিনিসিউস মিলে মোট গোল করেছিলেন ৬৬টি। সঙ্গে একে অপরের অনেক গোলে অ্যাসিস্টের ভূমিকা তো আছেই। নতুন মিশনের শুরুতেও সেই ধারা ধরে রাখলেন তারা। দল পেল বাড়তি আত্মবিশ্বাস। বাকি সময়ে উল্লেখযোগ্য আর কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। স্কোরলাইনের মতো মাঠেও আধিপত্য ধরে রেখে জয়ের আনন্দে ভাসে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী রোববার আলমেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লা লিগার শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে আনচেলত্তির শিষ্যরা।