সুন্দরবনের নিরাপত্তা সতর্ক পদক্ষেপই কাম্য

110

gourbangla logo

দেশের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সুন্দরবনের নিরাপত্তার প্রশ্নে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সতর্কতাই কাম্য। সম্প্রতি সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ে ডকুমেন্টারি তৈরির সময় তিন ফরাসি সাংবাদিকের ব্যবহƒত ক্যামেরাযুক্ত ড্রোন জব্দ করে বন বিভাগ। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল। বাংলাদেশের আকাশে ড্রোন উড়ানোর জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া সুন্দরবনের ওপর ডকুমেন্টারি নির্মাণ এবং ড্রোন ব্যবহারে বন বিভাগের অনুমতির দরকার হয়। অনুমতির বিষয়টি ওই তিন বিদেশী সাংবাদিকের জানা ছিল না। তাই তাদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। তারা তাদের ভুল স্বীকার করে ড্রোনটি ফেরত চেয়ে বন বিভাগের কাছে আবেদন করলেও সেটি তাদের ফেরত দেয়া হয়নি। বন বিভাগও নাকি গত এক সপ্তাহে এ বিষয়ে কোনো সমাধানে পৌঁছতে পারেনি। বর্তমানে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের কোনো কোনো দেশে জঙ্গি নিধনে ড্রোন ব্যবহার করে বোমা হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে ড্রোন একটি স্পর্শকাতর বস্তুতে পরিণত হয়েছে। সেক্ষেত্রে পূর্ব অনুমতি না নিয়ে সুন্দরবনে কেউ ড্রোন ব্যবহার করলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তাছাড়া সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এ অঞ্চলে জলদস্যু-বনদস্যুদের উৎপাত লেগেই আছে। বন্যপ্রাণী নিধন এবং বিষ দিয়ে নদীর মাছ ধরার মতো পরিবেশ-বিধ্বংসী কর্মকা- চালিয়ে আসছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে অপরাধীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ সংগঠনের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে। উপকূলীয় এলাকার অপরাধীরা গহিন সুন্দরবন কিংবা সমুদ্রে পালিয়ে থাকার চেষ্টা করলে তাদের দ্রুত ধরার সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টিও তাই গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবতা হল, বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরও জলদস্যুদের উৎপাত বন্ধ হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি আমাদের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। সুন্দরবন এলাকার জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় এখন ওই এলাকার অনেক নিরীহ মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে বনজসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংগ্রহে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যের কারণে সুন্দরবন এলাকায় পর্যটকের সংখ্যাও কমে গেছে। এসব প্রতিরোধে এবং সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সতর্ক থাকার বিকল্প নেই। আমরা আশা করব, বিদেশী সাংবাদিকদের কাছ থেকে জব্দকৃত ড্রোনটি ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সুন্দরবন বিভাগ এ বিষয়ে একটি যৌক্তিক সমাধানে আসতে সক্ষম হবে।