সিরিয়ায় অস্ত্রবিরতি উপেক্ষা করে হাসপাতালে হামলা, নিহত ২০

121

01-Syria

চলমান অস্থায়ী অস্ত্রবিরতির মধ্যেও গত বুধবার সিরিয়ার আলেপ্পোতে একটি হাসপাতাল ও আবাসিক ভবনে সরকারি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আর ভ-ুল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকা সিরীয় শান্তি আলোচনাকে টিকিয়ে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সিরিয়ায় নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্ট্যাফান ডি মিস্তুরা। ইউরোপীয় চারটি দেশের এমপি সিরিয়ার সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় আটকে পড়া বেসামরিকদের জন্য বিমান থেকে ত্রাণ ফেলতে নিজ নিজ দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বুধবারও আলেপ্পোর হাসপাতালে সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত হওয়া ২০ জনের মধ্যে বেশিরভাগই হাসপাতালের কর্মী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে শহরটিতে সরকারি বাহিনীর বিমান, মর্টারশেল ও রকেট হামলায় অন্তত ১শ জন নিহত হয়েছেন।
৫ বছরের সংঘাতের পর গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সিরিয়ায় একটি অস্ত্রবিরতি কার্যকরে সম্মত হয় দুই বিবাদমান পক্ষ। তবে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে দেশটির সরকার ব্যাপকভাবে এ অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্রোহীরা। সরকারও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ আনে। সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইস্যু গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ স্থগিত করে প্রধান বিরোধী জোট। এমন অবস্থায় জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে সংকট দেখা দেয়।
ই প্রেক্ষাপটেই সিরিয়ার বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা জোরালো করার ওপর জোর দেন মিস্তুরা। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ ভøাদিমির পুতিনের হস্তক্ষপের ওপর সিরিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া সফল হওয়ার ইস্যুটি নির্ভর করছে।’
মিস্তুরা জানান, কিছু ক্ষেত্রে সিরিয়ার দুই পক্ষ সমঝোতায় আসলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম মতানৈক্য রয়েছে। নতুন সরকারে আগের সরকার, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র ধারাসহ সব পক্ষের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভূক্ত করার ব্যাপারে সমঝোতা হলেও এসব আয়োজনে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের উপস্থিতি নিয়ে মতানৈক্য চলছে।
এর আগে গত বুধবার জেনেভায় তৃতীয় দফার শান্তি আলোচনা শেষ হওয়ার পর মিস্তুরা বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে যে অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে সমঝোতা হয়েছিল তা কোনওরকমে টিকে আছে। যেকোনসময় তা ভেঙে পড়তে পারে।’ সিরিয়ায় গত দুইদিনে প্রতি ২৫ মিনিটে গড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রতি ১৩ মিনিট অন্তর একজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে সিরিয়ার সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় আটকে পড়া বেসামরিকদের জন্য বিমান থেকে ত্রাণ ফেলতে নিজ নিজ দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের এমপিরা। সিরিয়ায় চলমান অস্ত্রবিরতির নাজুক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এ আহ্বান জানান তারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের কাছে বেশ কয়েকজন এমপির পক্ষ থেকে লেখা এক চিঠিতে বলা হয়, ‘আমাদের দেশের (ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিমান আইএসবিরোধী লড়াইয়ের জন্য সিরিয়ার আকাশসীমা দিয়ে উড়াউড়ি করছে। জাতিসংঘ যদি সিরীয়দের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সক্ষমতা কম থাকলে তা আমরা পূরণ করতে পারি। আমাদের সে সক্ষমতা রয়েছে।’

উল্লেখ্য, সিরিয়ায় গত ৫ বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ। লাখ লাখ মানুষ হয়েছেন ঘরহারা।