সিরিজ বাঁচানোর মিশনে করোনার ধাক্কা শ্রীলংকা শিবিরে

5

অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচ ১০ উইকেটে হেরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে স্বাগতিক শ্রীলংকা। সিরিজ হার এড়াতে হলে, আজ থেকে শুরু হওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জয় পেতেই হবে লংকানদের। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে, মাঠের বাইরে করোনাভাইরাসের সাথে লড়তে হচ্ছে দলের ক্রিকেটারদের। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন শ্রীলংকার আরও তিন ক্রিকেটার। তাই করোনার ধাক্কাকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে খেলতে হবে শ্রীলংকাকে। আজকে গল-এ বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। সদ্যই করোনাভাইরানে আক্রান্ত হয়ে শেষ টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন বাঁ-হাতি স্পিনার প্রবীন জয়াবিক্রমা। আর পারফরমেন্সের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন আরেক স্পিনার লাসিথ এম্বুলদেনিয়া। তাই জয়াবিক্রমা ও এম্বুলদেনিয়ার পরিবর্তে অনিভজ্ঞ তিন স্পিনারকে দলে নিয়েছিলো শ্রীলংকা। তারা হলেন- মহেশ থিকশানা, দুনিথ ওয়েলালাগে ও লাকসিথা মানসিংহে।
কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের আগের দিন করোনার কারণে আরও তিন ক্রিকেটারকে হারালো শ্রীলংকা। তারা হলেন- ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, আসিথা ফার্নান্দো ও জেফ্রি বন্দরসে। সিরিজ বাঁচানোর মিশনে নামার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল লংকানরা। এরমধ্যে খুশির খবরও আছে তাদের। করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ব্যাটার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ম্যাথুজ। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে খেলবেন তিনি। শ্রীলংকার অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœ বলেন, ‘ এমনিতেই সিরিজে পিছিয়ে আছি। এমন অবস্থায় করোনার কারণে খেলোয়াড়দের হারানোটা হতাশার। শেষ টেস্টের আগে অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দল। তবে লড়াই করার মানসিকতা থেকে আমরা একবিন্দু পিছু ঘঁতে রাজি নই। যারা আছে, তাদের নিয়েই শেষ পর্যন্ত লড়াই করবো আমরা।’ সিরিজের প্রথম টেস্টে শ্রীলংকার পারফরমেন্স আশানুরূপ ছিলো না।

অস্ট্রেলিয়ার স্পিনারদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে লংকান ব্যাটারদের। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার দুই স্পিনার নাথান লায়ন ৫টি ও মিচেল সুইপসন ৩টি করে উইকেট নিয়ে লংকানদের ২১২ রানে গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপুর্ন অবদান রেখেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার স্পিনারদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে শ্রীলংকার। এবার ১১৩ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। লায়ন ৪টি, সুইপসন ২টি উইকেট নেন। তাদের সাথে অকেশনাল বোলার হিসেবে শ্রীলংকার বড় সর্বনাশ করেন অফ-স্পিনার ট্রাভিস হেড। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৩২১ রান করে। ফলে মাত্র ৫ রানের টার্গেট পায় অস্ট্রেলিয়া। বিনা উইকেট টার্গেট স্পর্শ করে তারা।

প্রথম টেস্টে জয় সহজ পেলেও দলের পারফরমেন্সে খুব বেশি সন্তস্ট নন অসি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ব্যাটারদের কাছ থেকে বড় স্কোরের প্রত্যাশায় ছিলেন তিনি। শেষ টেস্টে ব্যাটাররা জ¦লে উঠবে বলে বিশ^াস কামিন্সের, ‘প্রথম বোলাররা দারুন করেছে। বিশেষভাবে স্পিনাররা। তবে ব্যাটাররা ভালো করতে পারেনি। আশা করছি, শেষ টেস্টে ব্যাটাররা ভালো করবে এবং দলকে সিরিজ জয়ে সহায়তা করবে।’ সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে বিশে^র প্রথম দল হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৪শ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছিলো অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট ক্রিকেটে ৮৪৩ ম্যাচে ৪০০টি জয়, ২২৬ হার, ২১৫টি ড্র ও ২টি ম্যাচ পরিত্যক্ত আছে অসিদের।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮২টি জয় আছে ইংল্যান্ডের। তারা খেলেছে ১০৫২টি টেস্ট। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ইংল্যান্ডের। শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ বিশ^ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। বর্তমানে দ্বিতীয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৯ ম্যাচে ৮৪ পয়েন্ট ও শতকরা জয় ৭৭ দশমিক ৭৮। ষষ্ঠস্থানে আছে শ্রীলংকা। ৭ ম্যাচে ৩টি করে জয়-হার, ১টি ড্রতে ৪০ পয়েন্ট তাদের। জয়ের শতকরা ৪৭ দশমিক ৬২। এখন পর্যন্ত ৩২টি টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার জয় ২০টি ও শ্রীলংকার ৪টি এবং ড্র হয়েছে ৮টি।