দৈনিক গৌড় বাংলা

শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পেল রাজার দল

পায়ে ক্র্যাম্প করার ঠিকমতো দৌড়াতে পারছিলেন না সিকান্দার রাজা। কিন্তু হৃদয়ে ছিল সাহস, আর পেশিতে জোর। দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে জিতিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে উদযাপন করলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের অভিনন্দনের জবাবও দিলেন তিনি ব্যাট ও হেলমেট উঁচিয়ে। তার দল যদিও হেরে গেছে প্রথম চার ম্যাচে, কিন্তু শেষ ম্যাচে এমন দাপুটে জয়ের পর এইটুকু উচ্ছ্বাস দেখানোই যায়! বাংলাদেশ টানা চারটি ম্যাচ জিতলেও পারফরম্যান্সে পড়েনি প্রত্যাশার প্রতিফলন। ব্যাটে-বলে ঘাটতির জায়গা ছিল অনেক, জয়ের ধরনে ছিল অস্বস্তি। শেষ ম্যাচে তাই দলের কাছে চাওয়া ছিল পারফরম্যান্সের পূর্ণতা। কিন্তু হলো উল্টো। ব্যাটে-বলে যে দাপট আর বড় জয় প্রত্যাশিত ছিল বাংলাদেশের কাছে, ঠিক সেভাবেই জিতে গেল জিম্বাবুয়ে। সিরিজের শেষ ম্যাচে রাজার দল জয় পায় ৮ উইকেটে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার বাংলাদেশকে ১৫৭ রানে আটকে রেখে জিম্বাবুয়ে জিতে যায় ৯ বল বাকি রেখেই। ৪৬ বলে ৭২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে ফেরেন রাজা। তবে জিম্বাবুয়ের জয়ের আরেক নায়ক ব্রায়ান বেনেট। অফ স্পিনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৫টি করে ছক্কা ও চারে ৪৯ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলেন তরুণ অলরাউন্ডার। সকাল ১০টায় শুরু ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ তিন উইকেট হারায় দ্রুতই।

আগের ম্যাচে শতরানের উদ্বোধনী জুটি গড়া সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান এবার পারেননি জুটি জমিয়ে তুলতে। ম্যাচের প্রথম ওভারে যদিও সিকান্দার রাজার বলে স্লগ সুইপে ছক্কায় শুরু করেন সৌম্য। তবে পরের ওভারেই ব্লেসিং মুজারাবানি ফেরান তানজিদকে (৫ বলে ২)। পরের ওভারে ব্রায়ান বেনেটের অফ স্পিনে পয়েন্টে ক্যাচ ধরা পড়েন সৌম্য (৭ বলে ৭)। বেনেট পরের ওভারে যখন উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তাওহিদ হৃদয় (৬ বলে ১), বাংলাদেশ তখন ধুঁকছে ১৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে। মাহমুদউল্লাহর উদ্ধার-পর্ব শুরু হয় সেই ওভার থেকেই। টানা তিনটি বাউন্ডারি মারেন তিনি সুইপ, ড্রাইভ ও কাট শটে। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে গড়ে ওঠে তার জুটি। শান্তর শুরুটা ছিল একদমই মন্থর। পরে ফারাজ আকরামের বলে তিনটি বাউন্ডারিতে তিনিও কিছুটা বাড়ান রানের গতি। দুজনই যখন বেশ দ্রুততায় রান তুলছেন, তখন শান্তর বিদায়ে ভাঙে জুটি। বাঁহাতি স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজার মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মারার পরের বলেই সুইপে ছক্কার চেষ্টায় বাংলাদেশ অধিনায়ক আউট হয়ে যান ২৮ বলে ৩৬ রান করে।

বেনেটের বলে ছক্কা মেরে রানের গতি ধরে রাখার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু পরের সময়টাতেই কিছুটা খেই হারান তিনি। প্রত্যাশিত দ্রুততায় ছুটতে পারেননি সাকিব আল হাসানও। শন উইলিয়ামসের বলে একটি ছক্কা মারলেও সাকিব পরে আউট হন ১৭ বলে ২১ রান করে। মাহমুদউল্লাহ ফিফটি করেন ৩৬ বলে। কিন্তু ইনিংসকে গতি দিতে পারেননি এরপর। একসময় ২৬ বলে তার রানছিল ৪৩। পরের ১৮ বলে রান করতে পারেন তিনি কেবল ১১। বাংলাদেশে তখন দেড়শ হওয়া নিয়েই টানাটানি। জাকের আলির ক্যামিওতে শেষ পর্যন্ত শেষ দুই ওভারে ২৯ রান তুলতে পারে দল। দুই ছক্কায় ১১ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন জাকের। জিম্বাবুয়ের রান তাড়ার শুরুটা হয় বেনেটের ঝড় দিয়ে। পাওয়ার প্লেতে শেখ মেহেদির দুই ওভারে তিনটি চার দুটি ছক্কা মারেন তিনি। চার ওভারে জিম্বাবুয়ে তোলে ৩৮ রান। তাতে বেনেটের রানই ছিল ৩৬। আরেক ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে ১ রান করে উইকেট উপহার দেন সাকিবকে। তবে সিকান্দার রাজাকে সঙ্গী করে দলকে এগিয়ে নেন বেনেট।

১০ ওভারে জিম্বাবুয়ের রান ছিল ৬২। পরে রান বাড়তে থাকে দ্রুত। বেনেট ফিফটিতে পা রাখেন ৩৬ বলে। রাজা শুরুতে সময় নেন কিছুটা। পরে সাইফ উদ্দিনের টানা দুই বলে মারেন ছক্কা ও চার। রিশাদের এক ওভারে ছক্কা মারেন দুজনই। দুজনের ব্যাটে শতরান পেরিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। সাকিবকে সাবধানে খেলে পার করে দেন তারা। তার চার ওভার থেকে রান আসে কেবল ৯। এই জুটি ভাঙে ১৫ ওভার পেরিয়ে। সাইফ উদ্দিনের শর্ট বল আকাশে তুলে বেনেট ফেরেন ৭০ রানে। তবে জিম্বাবুয়ের জিততে কোনো সমস্যা হয়নি। সাইফের ওই ওভারে দুটি চার মেরে চাপ সরিয়ে দেন রাজা। সাইফের পরের ওভারেই টানা তিন বলে দুটি ছক্কা ও এক চারে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান তিনি। শেষ পথটুকুতেও দলের ভরসা হয়ে থাকেন তিনি। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচের সেরা হন যদিওব্রায়ান ব্রেনেট। শেষ ম্যাচে না খেললেও প্রথম চার ম্যাচে আট উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা তাসকিন আহমেদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৭/৬ (তানজিদ ২, সৌম্য ৭, শান্ত ৩৬, হৃদয় ১, মাহমুদউল্লাহ ৫৪, সাকিব ২১, জাকের ২৪*, সাইফ উদ্দিন ৬*; রাজা ৪-০-২৬-০, মুজারাবানি ৪-১-২২-২, বেনেট ৩-১-২০-২, আকরাম ২-০-২০-০, মাসাকাদজা ২-০-২৩-১, জঙ্গুয়ে ৪-০-৩৩-১, উইলিয়ামস ১-০-১২-০)।
জিম্বাবুয়ে: ১৮.৩ ওভারে ১৫৮/২ (বেনেট ৭০, মারুমানি ১, রাজা ৭২*, ক্যাম্পবেল ৭*; মেহেদি ২.২-০-৩০-০, সাকিব ৪-০-৯-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৫৫-১, মুস্তাফিজ ৩-০-১৮-০, রিশাদ ৪-০-৩৩-০, সৌম্য ১-০-১০-০)।
ফল: জিম্বাবুয়ে ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ৪-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: ব্রায়ান বেনেট।
ম্যান অব দা সিরিজ:তাসকিন আহমেদ।

About The Author