সাপাহার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে ধান কাটা শুরু

129

Photo Sapahar, 30,,4,16 (Joboy bill) (Small)
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে বোরো ধানকাটা শুরু হয়েছে। কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত ধানের ফলনে আনন্দে আতœহারা হলেও বাজারে ধানের নায্য মূল্য না থাকায় ধান বিক্রি করতে এসে দিশে হারা হয়ে পড়ছেন। এ ছাড়া গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে শিলা বৃষ্টির আতঙ্কে তড়ি ঘড়ি করে বিল হতে তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার জোর চেষ্টা চালালেও প্রয়োজনীয় কামলা বা কৃষি শ্রমিকের অভাবে তা পারছে না।
উপজেলা কৃষি বিভাগের জরিপ মতে এবারে ওই বিল এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হে. বা সাড়ে ২৬ হাজার বিঘা জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। ৮০-এর দশকে এই বিলে সামান্য কিছু জমিতে ধান চাষের সূত্রপাত হলেও বর্তমানে ধান চাষের এই পরিসংখ্যান বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কালের প্রকৃতিক মাছে ভরা ও হাজার রকমের কচুরী পানার সমাহারে ভরপুর প্রকৃতিতে বিমুগ্ধ ঐতিহ্যবাহী জবই বিল এখন দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। বর্ষা এলে পূর্ণ যৌবন ফিরে পেলেও খরা মৌসুমে একেবারে তার বিপরীত চিত্র চোখে পড়ে বিলে। বর্তমানে অপরিচিত কোন মানুষ জবই বিল খুজতে এলে মনেই হবেনা এটি ঐতিহ্যবাহী একটি বিল। যে দিকেই চোখ যাবে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ আর মাঠ, দু’এক জায়গায় হয়তো একটু পানি চোখে পড়বে যা বিলের স্মৃতিকে ধরে রেখেছে। এলাকার মৎস্যজীবীদের ভাগ্যন্নোয়নে ১৯৯৭সালে বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি সফরে বরেন্দ্র ভূমি সাপাহারে এসে এই জবই বিলকে একটি বৃহৎ মৎস্য প্রকল্প গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। সে থেকেই বিলে একটি মৎস্য প্রকল্প পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে মৎস্যজীবীরা মাছ চাষে প্রাণ ভরে উৎসাহ পেলেও খরা মৌসুম এলেই তাদের মধ্যে মাছ চাষে ভাটা পড়ে। তবে প্রতি খরা মৌসুমে বিলে মৎস্যচাষ হ্রাস পেলেও নওগাঁ জেলার খাদ্য শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত সাপাহার উপজেলার খাদ্য উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে এই বিল। প্রতিবছর বিল হতে মাছের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমান ধান উৎপাদন হয়ে থাকে যা উপজেলার প্রয়োজনীয় খাদ্য ঘাটতি মিটিয়ে অন্যত্র চালান করা হয়ে থাকে। একটু বৃষ্টি হলেই চর্তুদিক হতে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে অনেক ধানের জমি তাই বিল এলাকার চাষীরা একটু আগে থেকেই ওই বিলে ধান কাটা শুরু করে থাকে। বর্তমানে কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে বিল এলাকার চাষীরা অনেকটাই মানুষিক চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে একাধীক কৃষক জানিয়েছেন। বর্তমানে বিলে ধান,মাছ উভয় চাষবাদ হওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি অসংখ্য কৃষকও তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ সুখে শান্তিতে দিনাতিপাত করতে পারছে বলেও অনেকে জানিয়েছেন।