সমাজসেবার উপবৃত্তি পাবার আশায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনগ্রসর গোষ্ঠীর সদস্য সাবেত্রী

43

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী শ্রীমতি সাবেত্রী রানীর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার হুজরাপুর রেলবাগানে। তার বাবা শ্রী মানিক পেশায় একজন কর্মকার। দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী হলেও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সাবেত্রী। পড়াশোনা পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে পুলিশ হওয়ার।
সাবেত্রী স্কুল থেকে শিক্ষা উপবৃত্তি পেলেও অনগ্রসর, পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে এখনো সমাজসেবা কার্যালয় থেকে মেলেনি শিক্ষা উপবৃত্তি। তবে সাবেত্রীর উপবৃত্তি পাওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে কুলসুম। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই আশ্বাস দেন।
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই আপাতত বাড়িতে বসেই পিইসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে সাবেত্রী।
ছয় সদস্যের পরিবারে সাবেত্রীর বাবা মানিকের আয় প্রতিদিন ৩০০ টাকার মতো। এ টাকা দিয়ে সংসার চলতে চায় না। তবুও টেনেটুনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সংসারটাকে। আর করোনার প্রভাবে অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। আয় কমে গেছে।
শ্রী মানিক জানান, ব্যবসা আগে ভালো চললেও বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আর আগের মতো দা, বঁটি ইত্যাদি বিক্রিও হয় না। আবার দামও কমে গেছে। তাই কোনোরকমে টিকে আছি। মেয়ে সম্পর্কে তিনি বলেন, সাবেত্রী স্কুল থেকে উপবৃত্তি পায়, তবে সেটা পর্যাপ্ত নয়। আমাদের জন্য সমাজসেবা অফিসের যে শিক্ষা উপবৃত্তি আছে, সেটা পেলে সাবেত্রীর পড়ালেখার পাশাপাশি পরিবারের সুবিধা হতো।
সাবেত্রীর মায়ের কথা, অভাবের সংসার। তার ওপর ৩ মেয়ে। বড় মেয়েটাও আমার বাড়িতেই থাকে। যদি সমাজসেবা থেকে সাবেত্রী উপবৃত্তি পেত তবে ওর লেখাপড়াটা ভালোভাবে চলত।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উম্মে কুলসুমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই ধরনের নি¤œ আয়, দুস্থ-অসহায় বা পিছিয়ে পড়া শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে উপবৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে। স্কুল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সাবেত্রীর উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আশ্বাস দিয়ে উম্মে কুলসুম বলেন, জেলায় অনগ্রসর পিছিয়ে পড়া মোট ১৬৮ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমিক স্তরে ৮৯ জন, মাধ্যমিক স্তরে ৪১ জন, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১৯ জন এবং উচ্চতর স্তরে ১৯ জন এই শিক্ষা উপবৃত্তি পেয়ে থাকে। তিনি আবারো বলেন, সাবেত্রীর স্কুলের বিভিন্ন তথ্য আমাকে দিলে আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সে কেন উপবৃত্তি পায় না তা জেনে তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।
সমাজসেবা অধিদপ্তর অনগ্রসর দলিত বা হরিজন শিক্ষার্থীদের জন্য ৪টি স্তরে উপবৃত্তি প্রদান করে থাকে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরে জনপ্রতি মাসে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১০০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১২০০ টাকা করে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।

ফাতিমা তুজ জোহরা : ফেলো, রেডিও মহানন্দা ৯৮.৮ এফ এম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ