সভরেন বন্ড

118

gourbangla logoদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য নতুন নতুন কৌশল ও পদক্ষেপ নেয়া অত্যাবশক হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করা না গেলে উন্নয়নমূলক সব কাজই থমকে যেতে বাধ্য। তাই এই খাতকে সবল ও গতিশীল করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই হয়ে ওঠে সহায়ক শক্তি। দেশে পদ্মা সেতুসহ আরও অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সুচারুরূপে তা সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগানে তাই সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে পাঁচ শ’ কোটি মার্কিন ডলারের সমান ‘সভরেন বন্ড’ ছাড়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ থেকে এই বন্ড ছাড়া হচ্ছে। সভরেন বন্ড হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের বিপরীতে সরকারের গ্যারান্টি প্রদান। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার যে অর্থ নিয়ে থাকে, তাতে অনেক সময় অসুবিধা তৈরি হয়। তাই এই বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে গৃহীত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে বৈদেশিক ঋণ সহায়তার আর প্রয়োজন হবে না। দেশে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একত্রিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্থ অলস পড়ে থাকার বিপরীতে উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তটি অবশ্যই যুগোপযোগী। রিজার্ভের অর্থ থেকে ঋণ নিয়ে মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য গঠিত কমিটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে, যাতে বিভিন্ন সুপারিশ রয়েছে। একই সঙ্গে রিজার্ভ ব্যবহারের অনেক খাত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এই বন্ড গঠনের জন্য বেশ সময়ের প্রয়োজন হবে। এমনিতেই বড় বড় প্রকল্পের জন্য অনেক অর্থ প্রয়োজন। সভরেন বন্ডের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য নতুন বৈকি। তবে সাধারণত ধনী বা উন্নত দেশ যাদের অনেক সম্পদ তারা এই বন্ড ছাড়ে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অবশ্য বলেছেন, রিজার্ভের টাকা দিয়ে গড়া সভরেন ফান্ড একটি নতুন চিন্তা। তাই গভীর মনোনিবেশসহকারে বিষয়টিকে কার্যকর করার বিকল্প নেই। এ খাতের ইতি-নেতি দিকগুলো পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ অত্যাবশক। টাকার দরকার হলে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ছেড়েও তা সংগ্রহ যাতে করতে পারে সে ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। দেশে তারল্য সঙ্কট না থাকায় এই বন্ড চালু যথাযথ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। রিজার্ভের অংশ থেকে কিছু নিয়ে তহবিল গঠন করা হলে অর্থনীতির জন্য কোন ক্ষতি হবে না। বরং দেশের জন্য লাভজনক হবে। বিদেশ থেকে সুদে ঋণ নিয়ে বন্ড ছাড়লে সরকারের ওপর বোঝা আরও বাড়বে। তার চেয়ে নিজ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা নিয়ে ফান্ড গঠন করে বন্ড ছাড়লে একদিকে দেশের টাকা দেশের মধ্যেই থাকবে, অন্যদিকে বিদেশী ঋণের বোঝাও কমবে। অর্থমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাতে বাজেট ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বন্ডের মাধ্যমে তা হবে না। এই অর্থ ব্যবহারের প্রকল্প হবে অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা অন্য স্থানে ব্যবহার হলে বিনিময়ে তারা টাকা পায়। এখানেও তা দিতে হবে। এ বন্ড গঠনের জন্য আপাতত এক শ’ কোটি ডলারের তহবিল ও পৃথক আইন করা হচ্ছে। ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা বিভাগ করা হবে। সুদের হার বিদেশী ঋণের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়বে। নিয়মনীতি ও বিধিবিধান যথাযথ অনুসরণ করা গেলে নতুন এ খাত বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ক্ষেত্রকে বিকশিত করবে। সভরেন বন্ড যেহেতু দেশ ও জনকল্যাণে জড়িত হচ্ছে, তাই এর সুষ্ঠু বিকাশ অবশ্যই হতে হবে।