সব শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি

57

gourbangla logo

বর্তমান সরকারের বহুবিধ উন্নয়নের ফিরিস্তির মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা যে অন্যতম, তাতে দ্বিমতের অবকাশ নেই। বছরের শুরুতেই দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের হাতে কয়েক কোটি বই তুলে দেয়ার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে পরীক্ষা নেয়া ও ফল ঘোষণা এর প্রমাণ। সরকারের এই সাফল্য দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও প্রশংসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সরকার তথা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এখানেই থেমে থাকেনি। প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও গণমুখী ও সফল করে তোলার লক্ষ্যে আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়া হবে। বর্তমানে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর ৭০ শতাংশকে মাথাপিছু এক শ’ টাকা করে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। এতে প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানা যায় না। কেননা, স্কুল কর্তৃপক্ষ সব শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির টাকা দেয়ার মনোভাব থেকে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখায়। তাছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত বই ছাপতে হয়, যাতে অপচয় ঘটে। অতঃপর সব শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হলে সরকারের ধারণা এই খাতে নয়-ছয় কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থেকেই সরকারের এই পদক্ষেপ। তবে প্রকৃতপক্ষে এর সুফল পাওয়া যাবে মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের পর। উপবৃত্তির টাকা যথাসময় যথাস্থানে পৌঁছে দেয়ার জন্য নিয়মিত তদারকি অত্যাবশ্যক। ঝরে পড়ার হার রোধেও তা সহায়ক হতে পারে। বর্তমানে দেশে ৬৩ হাজার ৪১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটি ৪৬ লাখ ৭১ হাজার ৯১৪। তবে এই সংখ্যা যথাযথ ও সঠিক কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর বাইরেও রয়েছে বেশ কিছুসংখ্যক এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক বা অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কিন্ডারগার্টেন স্কুল, মাদ্রাসা, উপানুষ্ঠানিক বিদ্যালয় ইত্যাদি। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে একটি আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু করা বাঞ্ছনীয়। সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা জীবন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সময়ে তাদের যা শেখানো হয়ে থাকে তাই কাজে লাগে পরবর্তী জীবন ও মানস গঠনে। আর তাই প্রাথমিক স্তর থেকেই দেশ, জাতি, স্বাধীনতা, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, সমাজ ভাবনা তথা দেশ গঠনমূলক চিন্তা-চেতনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধ্যান-ধারণা দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শিশুদের কথাও ভাবতে হবে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকম-লীর সমন্বয়ে যুগোপযোগী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা বাঞ্ছনীয়। এর পাশাপাশি দৃষ্টি দিতে হবে অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের প্রতিও।