সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী জনমত সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহবান

79

captureপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে এর বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ দেশ। কাজেই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করার জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে আমি আহবান জানাব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং আশাদের প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা রয়েছেন- সবাইকে সম্মিলিতভাবে এই সন্ত্রসবাদ-জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে বোঝাতে হবে- সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের পথ শান্তির পথ না, ইসলামের পথ না, এই পথ কখনও মানুষের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী এবং উন্নয়ন বিষয়ত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানেও যোগ দেন এবং আরভি মিন সন্ধ্যানী নামক একটি জরিপ জাহাজের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রেলপথ বিষয়ক মন্ত্রী মুজিবুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর এমপি, ডা. দিপু মনি এমপি এবং এম এ লতিফ এমপি গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্ব সভায় মাথা উচু করে চলতে চাই। আমরা সেভাবেই মাথা উঁচু করে চলব। সেইভাবে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের উন্নতি হয়। বাংলাদেশ এগিয়ে চলে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। কারণ আমরা এদেশকে ভালোবাসি। দেশের মানুষকে ভালোবাসি। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার ব্রত নিয়েই আমরা রাজনীতি করি। নিজের ভাগ্য গড়া না, মানুষের ভাগ্য গড়া। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্ম একটি সুন্দর দেশ রেখে যাওয়া- এটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমরা কল্যাণের পথে থাকতে চাই। জনগণের সার্বিক কল্যাণ করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই। তাই সকলের প্রতি আমার আহবান থাকবে- সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা আমাদের দেশকে যেন শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি। কারণ ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম সবসময় শান্তির কথাই বলেছে অথচ কিছু লোরেকর কারণে খুন খারাপি করে এই ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের ধর্মে যে শান্তির কথা বলা রয়েছে, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা:) যে শান্তির কথাগুলো বলেছেন- আমি মসজিদের ইমাম সাহেবদের বলব জুমা’র নামাজের খুৎবায় যেন সেগুলো প্রচার করেন। কেউ যেন আর বিপথে না যায় অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের প্রতি লক্ষ্য রাখার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যাতে করে সন্তানরা খোলামনে তাদের মনের কথাগুলো অভিভাবকদের বলতে পারে। বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্বাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিও তিনি তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের দিকে নজর দেয়ার এবং কেউ যেন জঙ্গিবাদ বা মাদকের সাখে সম্পৃক্ত না হয় সেদিবে খেয়াল রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, সকলে এভাবে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলেই সন্ত্রাস দমনে আমরা যে সফলতা অর্জন করেছি তাকে আরো এগিয়ে নিতে সক্ষম হব।