সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

12

দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার কারণে বিশ্বে আজ বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি জঙ্গি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনে কাজ করছেন। তিনি জানেন আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়নের সুফল পাওয়া যায় না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে বাগেরহাট স্টেডিয়ামে এলিট ফোর্স র‌্যাব-৬ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালসহ পর্যটকদের জীবন বিপন্নকারী জলদস্যু দমনে যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তার যথাযত বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি বলেন, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও পুলিশ যৌথভাবে এ সফলতা ধরে রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরপরও যদি কেউ সুন্দরবনে পুনরায় দস্যুবৃত্তি করার চেষ্টা করে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি আরো বলেন, সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ দিয়ে কেউ অপরাধীদের শেল্টার দিলে তাকেও আইনের আওয়তায় আনা হবে। এ সময় মন্ত্রী আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যু ও বনদস্যুদের নামের মামলা আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন।
খুলনা র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নুরুস সালেহীনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা সিটি করপোরেশন মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন, শেখ সারহান নাসের তন্ময়, মো. শামসুল আলম টুকু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, গ্লোরি ঝর্না সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
নির্যাতিত জেলেদের পক্ষ থেকে জলদস্যুদের নির্যাতনের ধরন বর্ণনা করে বক্তব্য রাখেন জেলে তোফাজ্জল সরদার ও আত্মসমর্পণ করা জলদস্যু ডন বাহিনী প্রধান মেহেদী হাসান ডন।
গত বছরের এই দিনে প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ ৬টি বনদস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত’র ঘোষণা দেন।
সুন্দরবন জল দস্যুমুক্ত ঘোষণার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে র‌্যাবের দেয়া তথ্য অনুযায়ী র‌্যাব অভিযানে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৪৬টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে ৫৮৬ জন জলদস্যু গ্রেপ্তার, ১ হাজার ৭৮০টি অস্ত্র ও ৪১ হাজার ৯৫৫ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। অভিযান করতে গিয়ে দস্যুদের সাথে গোলাগুলিতে ১৬৩ জন দস্যু নিহত হয়েছে। ২০১৬ সালের ৩১ মে থেকে ১ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত সুন্দরবন অঞ্চলের ৩২টি বাহিনীর ৩২৮ জন জলদস্যু, ৪৬২টি অস্ত্র ও ২২ হাজার ৫০৪ রাউন্ড গুলি দিয়ে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এছাড়াও র‌্যাব ৯টি জীবিত রয়েল বেঙ্গল টাইগার শাবক, ২৩টি টাইগারের চামড়া, ২৯টি জীবিত হরিণ, ১২৯টি হরিণের চামড়া ও বিপুল পরিমাণ বন্যপশু ও পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে র‌্যাবের অভিযান ও সুন্দরবন নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় চিত্রনায়ক রিয়াজসহ শিল্পী ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।