সন্ত্রাসীদের কোন ক্ষমা নেই

111

gourbangla logo

মানুষ পুড়িয়ে মারা রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার সিলেটের জনসভায় ভাষণদানকালে তিনি বলেন, কোন ক্ষমা নেই, মানুষ পুড়িয়ে মারার দায়ে অভিযুক্ত সবার বিচার হবে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশ পাকিস্তানী ধারা থেকে ফিরে এলেও রাজাকার পুনর্বাসনকারী ও একাত্তরে পরাজিত যুদ্ধাপরাধীরা মিলেমিশে দেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করে। এদের বিগত কয়েক বছরের কর্মকান্ড দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রবিরোধী ছিল। এরা দেশে সন্ত্রাসবাদকে যেমন লালন করেছে, সন্ত্রাসী গড়ে তুলেছে, তেমনি জঙ্গীবাদের বিস্তারও ঘটিয়ে চলেছে। পাকিস্তানী তালেবান স্টাইলে এ দেশেও সন্ত্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রেখে জঙ্গীবাদের ঘাঁটি বানাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তারা। তাই পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে হত্যা করতেও দ্বিধা করে না। এরা মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কটাক্ষ করে। শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য নাশকতামূলক তৎপরতা তাদের বন্ধ হয়েছে তা নয়। ব্লগার, মুক্তমনা, বুদ্ধিজীবীদের আগাম ঘোষণা দিয়ে হত্যা করেছে। এদের সব কর্মকান্ড পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়- এরা ¯্রফে সরকারবিরোধী নয়, এরা বাংলাদেশবিরোধীও। সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা দেশবাসী ভুলবে কী করে কী ভীষণ অস্থির নৈরাজ্যকর বিপজ্জনক দিন গেছে জাতির জীবনে। খালেদা জিয়ার হুকুমে হরতাল-অবরোধের নামে দেশের সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারার নাশকতা চলে টানা তিন মাস। গোটা দেশ হয়ে ওঠে সন্ত্রাসের জনপদ। নাশকতায় প্রাণ হারান ১৫৩ জন, দগ্ধ হন ৩শ’ জনেরও বেশি। মোট ১ হাজার ৯৭০টি যানবাহনে আগুন দেয়া ও ভাংচুর করা হয়। মোট ১৬ দফায় ৮০টি স্থানে রেলে নাশকতা হয়েছে। ৬ দফা নৌযানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা শুধু মানুষ পুড়িয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তাদের সহিংসতা ও নাশকতায় দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধনও ঘটে বিপুল পরিমাণে। বিপন্ন হয়ে ওঠে ১৫ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যত। পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত বছর ৫ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে নাশকতার অভিযোগে ১ হাজার ৭৭৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু মামলার চার্জশীট বা অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, যানবাহনে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মানুষ হত্যার অন্তত চারটি ঘটনায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা হয়েছে। সমধর্মী মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের জামিন শুনানিতে সুপ্রীমকোর্ট মন্তব্য করেন হরতাল-অবরোধের সময় যে নাশকতা হয় তার দায় আহ্বানকারীদের নিতে হবে। নেতৃত্বদানকারীরা কোনভাবেই দায় এড়াতে পারে না। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিল। দেশবাসীর স্বাভাবিক প্রত্যাশা- শাস্তিযোগ্য ওই লাগাতার অপরাধের মূল হুকুমদাতার দায় আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মিটিয়ে দেয়া হবে। উল্লেখ্য, সরকারের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসবের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আশাবাদী করেছিলেন- এসব ঘটনার বিচার অবশ্যই হবে। মনে রাখতে হবে যত দ্রুত পেট্রোলবোমাবাজদের প্রাপ্য মিটিয়ে দেয়ার কাজটি সম্পন্ন হবে ততই দেশের জন্য মঙ্গল। এক্ষেত্রে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই চায় দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ। তা নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে আত্মক্রোধ নিরসন ও ক্ষমতারোহণের অভিলাষ পূরণের দুঃসাহস আর কেউ দেখাবে না বলে আশা করা যায়।