সনাতনধর্মী শিশুরাও পাচ্ছে ধর্মশিক্ষার সুযোগ

190

IMG_20170122_102206 (Custom)অপরূপ এই দেশ বাংলাদেশ। এ দেশে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বাস করে নানা ধরনের মানুষ। আর সুজলাসুফলা এ দেশে বাস করে তারা পাচ্ছে নানা ধরণের সুযোগ সুবিধা। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও বিনোদনের  পাশাপাশি তারা তাদের নিজ নিজ ধর্ম সর্ম্পকে জানার সুযোগও পাচ্ছে।
বর্তমানে শুরু হয়েছে হিন্দুসম্প্রদায়ের মন্দির ভিত্তিক ধর্মশিক্ষা। বিভিন্ন  এলাকায় স্থাপিত হয়েছে হিন্দুসম্প্রদায়ের ধর্মশিক্ষা বিষয়ক স্কুল। যেখানে নিজ নিজ ধর্ম সর্ম্পকে সুদক্ষ হয়ে গড়ে উঠছে হিন্দুসম্প্রদায়ের শিশুরা। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় এই সব শিশুদের ধর্মভিত্তিক শিক্ষান দান করা হচ্ছে। প্রকল্পেটি বাস্তবায়ন করছে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট। বর্তমানে প্রকল্পটির ৪র্থ পর্যায় চলমান। প্রাক-প্রাথমিক ও বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করাই  এ প্রকল্পের প্রধান কাজ । এ শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি নৈতিকতা শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নিরক্ষরতা দূরীকরণে বিদ্যালয়ে ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধ করতে প্রকল্পটি কাজ করছে। নারীর ক্ষমতায়ন, সহ¯্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, দারিদ্র বিমোচন  ও সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে প্রকল্পটি পরিপূরক ভূমিকা পালন করছে। মন্দিরের অবকাঠামো ব্যবহার করে শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালিত হয়। বিধায় স্বল্পব্যয়ে শিক্ষার্থীরা শিখতে পারছে। প্রকল্পটি ধর্মীয় সংহতি ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ শাখার একটি প্রতিষ্ঠান হল  বালিয়াঘাট্টা মন্দিরভিওিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানটি রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট্টা গ্রামে অবস্থিত। এখানে হিন্দুধর্ম বিষয়ক শিক্ষাদান করা হয়। যেখানে ২০ জন ছাত্র ছাত্রী লেখা-পড়ছে। তার মধ্যে ১৩ জন ছেলে ও ৭ জন মেয়ে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এইসব শিশুদেরকে  পাঠদান করা হয়। এই গ্রামে ৪০ ঘর হিন্দুসম্প্রদায়ের লোক বাস করেন, যার লোকসংখ্যা ৫৫০ জন। তারা সকলেই মাটির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তারা তাদের সন্তানদের এই স্কুলে ভর্তি করেছেন ধর্ম বিষয়ে পারদর্শী করার পাশাপাশি তাদেরকে প্রাইমারী শিক্ষার পূর্বপ্রস্তুতিও  দেয়া হয়।55555
এখানে ভর্তি করে বাচ্চাদের অনেক সুবিধা প্রদান করা হয় । এমন কথাগুলোই বলেন এই স্কুলের শিশুদের অভিভাবকরা। তারা বলেন, ভর্তি হবার আগে তাদের সন্তান ধর্ম বিষয়ে জানতো না। কিন্তু  এখন তারা ধর্ম বিষয়ে অনেকখানি জানতে পেরেছে।  তারা এই স্কুলে ভর্তি হয়ে এখন মন্ত্র, শ্লোক, কীর্তন  ইত্যাদি বিষয়গুলো জানতে পারছে। তারা প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পূর্ব প্রস্তুতি সর্ম্পকে জানতে পারছে। তাদেরকে বালিয়াঘাট্টা  মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম স্কুল থেকে খাতা, কলম,  রং, চক ও পেনসিলসহ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া হয়। এখানকার শিক্ষিকা যথাসময়ে সুশিক্ষা প্রদান করে থাকেন। মন্দিরভিত্তিক স্কুল হওয়ায় তাদের বাচ্চারা ধর্ম বিষয়ে জানা ছাড়াও স্কুলের নিয়ম কানুন,প্যারেড-পিটি ও শপথ সর্ম্পকে সচেতন হতে পারছে বলে জানান অভিভাবকরা।5555
বালিয়াঘাট্টা মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষিকা পূর্ণিমা রানী সাহা বলেন, ২০১৪ সালের ১১ এপ্রিল মন্দিরের সভাপতি শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ পালের উদ্যেগে এ কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি হওয়ায় এখানকার হিন্দুসম্প্রদায়ের শিশুরা ধমীয় শিক্ষার পাশাপাশি জানতে পারছে তাদের সংস্কৃতি সর্ম্পকে। এখানে ৪ থেকে ৬ বছরের শিশুদেরকে পড়ানো হয়। তাদের জাতীয় সংগীত, প্রাক-গঠন ও প্রাক-লিখন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষা, ছড়া,  গান ও গল্প, প্রাক-গণিত, চারু ও কারুকলা, খেলাধুল বিষয়ক ৭টি ক্লাস নেওয়া হয়। প্রতিদিন তাদের আড়াই ঘন্টা ক্লাস করানো হয়। ছাত্র ছাত্রীদের প্রত্যেকে  ৩টি করে বই, ২টি করে খাতা , ৩টি করে পেনসিল, ১টি করে রাবার, রং পেনসিল, আর্ট পেপার ইত্যাদি দেওয়া হয়। শিশুরা যাতে সামাজিক ভাবে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হয়ে ওঠে এবং ধর্মীয় নৈতিক  শিক্ষা সঠিকভাবে  আয়ত্ত করতে পারে। সে দিকটাও শিক্ষা কেন্দ্রের কাজ নির্ধারণে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। এ মন্দির ভিত্তিক স্কুলে সব রকম ব্যবস্থা থাকলেও কøাস করার কোনো রুম নেই। যার জন্য আমাকে মন্দিরের বাইরের বারান্দাই বাচ্চাদের ক্লাস নিতে হয়। প্রচন্ড শীতে শিশুদের অনেক কষ্টের সাথেই এখানে পড়তে হয়। এ কারণে আমি কতৃপক্ষের কাছে একটি রুমের ব্যবস্থা করে দেবার জন্য প্রার্থনা করছি।

ফেলো-রেডিও মহানন্দা