সদরে জমে উঠেছিল নির্বাচনী লড়াই, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন

150

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচন সোমবার শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ রুহুল আমিন নির্বাচিত হওয়ায় শুধু ৫টি সাধারণ ও ২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়।
এর আগে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন নির্বাচিত হওয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচন কিছুটা ম্লান হয়ে পড়ে। তবে ১নং ওয়ার্ডে (সদর উপজেলা) বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে আবদুল জলিল এবং হাতি প্রতীকে আবদুল হাকিম হেভিওয়েট প্রার্থীতে পরিণত হন। এই দুই প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাসে জেলা পরিষদ নির্বাচন কিছুটা হলেও চাঙ্গা হয়ে ওঠে। জেলাবাসীও এই দুই প্রার্থীর মধ্যে কে জিতেন, তা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে ভোট শেষে বিজয়ীর হাসি হেসেছেন আবদুল জলিলই।
নির্বাচনে ৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ৫টি ভোটকেন্দ্র হলোÑ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাশহরের গ্রিন ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়, নাচোল মহিলা ডিগ্রি কলেজ, রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজ, ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট ইনস্টিটিউশন ও শিবগঞ্জ ১২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নির্বাচন নির্বিঘেœ সম্পন্ন করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে তৎপর ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিটি কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একটি করে র‌্যাবের টহল দল নির্বাচনের কাজে দায়িত্ব পালন করে।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৫ কেন্দ্রের জন্য একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়। নির্বাচনে ৫টি সাধারণ ও ২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের জন্য ৫ জন প্রিজাইডিং, ১০ জন সহকারী প্রিজাইডিং এবং ২০ জন পোলিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করেন।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২০ জন এবং ২টি সংরক্ষিত আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই জেলাশহরের গ্রিন ভিউ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন এই নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোতাওয়াক্কিল রহমান।

নির্বাচিত হলেন যারা…

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার ২টি সংরক্ষিত ও ৫টি সাধারণ ওয়ার্ডে এ নির্বাচন করা হয়। ২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৫ জন এবং ৫টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এর মধ্যে সদর উপজেলা সাধারণ ওয়ার্ডে ৭ জন, নাচোল উপজেলা সাধারণ ওয়ার্ডে ৩ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা সাধারণ ওয়ার্ডে ৪ জন, ভোলাহাট উপজেলা সাধারণ ওয়ার্ডে ৪ জন এবং শিবগঞ্জ উপজেলা সাধারণ ওয়ার্ডে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অপর দিকে সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডে (সদর ও নাচোল উপজেলা) ২ জন এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডে (শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলা) ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জেলার ৫ উপজেলার ৫টি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়। গণনা শেষে বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার এ কে এম গালিভ খাঁন। এ সময় সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মোতাওয়াক্কিল রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত ফলাফলে জানা যায়, সাধারণ ওয়ার্ড-১ (সদর উপজেলা) থেকে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে ১২৪ ভোট পেয়ে সদস্য পদে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল জলিল মাসুদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মো. আবদুল হাকিম হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৭২ ভোট।
সাধারণ ওয়ার্ড-২ (নাচোল উপজেলা) থেকে তালা প্রতীকে ৪৮ ভোট পেয়ে তরিক-উজ-জামান সুমন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আনারুল ইসলাম টিউবওয়েল প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ ভোট।
সাধারণ ওয়ার্ড-৩ (গোমস্তাপুর উপজেলা) থেকে টিউবওয়েল প্রতীকে ৪৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন কবির আহম্মদ খান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোখলেসুর রহমান হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৪৩ ভোট।
সাধারণ ওয়ার্ড-৪ (ভোলাহাট উপজেলা) থেকে হাতি প্রতীকে ২৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন হোসনে আরা পাখি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উম্মে নূরজাহান নিশি তালা প্রতীকে এবং হারুণ আর রশিদ টিউবওয়েল প্রতীকে পেয়েছেন ১৬টি করে ভোট। উল্লেখ্য, হোসনে আরা পাখি এর আগেরবার সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছিলেন এবং হারুণ আর রশিদ সাধারণ সদস্য ছিলেন।
সাধারণ ওয়ার্ড-৫ (শিবগঞ্জ উপজেলা) থেকে আবদুস সালাম তালা প্রতীকে ১১৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য কামাল উদ্দিন। তিনি হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ ভোট।
অন্যদিকে সংরক্ষিত ওয়ার্ড-১ (সদর ও নাচোল উপজেলা) থেকে হরিণ প্রতীকে ১৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তাসলিমা খাতুন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজলেমা খাতুন ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ১১৫ ভোট।
অপর দিকে সংরক্ষিত ওয়ার্ড-২ (শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর) থেকে ফুটবল প্রতীকে ১৯৫ ভোট পেয়ে সাবিহা শবনম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামীমা জাহান মাইক প্রতীকে পেয়েছেন ১৭৭ ভোট।