‘সত্যিকারের মেসির’ কাছেই হেরে গেছে ক্রোয়েশিয়া

1

ম্যাচের প্রথম আধ ঘণ্টায় ক্রোয়েশিয়ার ছিল একতরফা দাপট। পুরো ম্যাচেও বল দখলের লড়াইয়ে তারা অনেক এগিয়ে। কিন্তু বল পায়ে রাখলেও গোলের সুযোগই তারা তৈরি করতে পারেননি। তেমনি তারা পেরে ওঠেননি লিওনেল মেসির সঙ্গেও। ম্যাচ শেষে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ বললেন, মেসির ধ্রুপদি পারফরম্যান্সই ম্যাচে গড়ে দিয়েছে পার্থক্য। কাতার বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরুর ৩০ মিনিট ক্রোয়েশিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ৩৪তম মিনিটে মেসির পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর দলের বাকি দুই গোলেও অবদান রাখেন অধিনায়ক। শেষ গোলটি তিনি বানিয়ে দেন চোখজুড়ানো স্কিলের প্রদর্শনী মেলে ধরে।

আরেকটি জাদুকরি পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্টে চতুর্থবার জিতে নেন ম্যান অব দা ম্যাচের স্বীকৃতি। ম্যাচের পর ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ বললেন, মেসির নৈপুন্যের কাছেই মূলত বিফলে গেছে তাদের সব প্রচেষ্টা। “সে বিশ্বের সেরা ফুটবলার, সেই মান তার আছে এবং খুবই বিপজ্জনক। সব কৌশল তার জানা এবং এমন ম্যাচে এই পর্যায়ের পারফরম্যান্স মেলে ধরা, এটিই সত্যিকারের মেসি, যাকে দেখার প্রত্যাশা থাকে সবার।” “আর্জেন্টিনার দলটাও অসাধারণ এবং মেসি এতটা ভালো ফুটবলার, পাশাপাশি হাজারও সমর্থকের প্রেরণাও তাদের সঙ্গী। গতকালকে তারা চারজন মিডফিল্ডার নিয়ে মাঝমাঠ সাজিয়েছিল এবং আমরা চেষ্টা করেছি আগ্রাসী খেলতে। তবে মেসি তা ¯্রফে একটি মুভেই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে, তৃতীয় গোলটিতে যেমন করেছে।” মেসির যে গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা, সেই পেনাল্টি নিয়ে অবশ্য কিছুটা ‘সংশয়’ আছে দালিচের মনে। তবে এটা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই তার।

“বল দখলের লড়াইয়ে আমরা এগিয়ে ছিলাম, তবে সুনির্দিষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা যেতে চাই না। তবে সংশয়পূর্ণ প্রথম গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।” ম্যাচজুড়ে আক্রমণভাগে গিয়ে বারবার খেই হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের পর তা নিয়ে আক্ষেপ করলেন কোচও। “ম্যাচে অনেক ভালো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারলেও আমরা যথেষ্ট সক্রিয় ছিলাম না। বিশেষ করে আক্রমণভাগে আমরা যথেষ্ট আঁটসাঁট হতে পারিনি। ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার জন্য সত্যিকারের একজন গোলস্কোরারের অভাব বোধ করেছি আমরা। তৃতীয় গোলটি হজম করার পর আর ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন ছিল। এই পরাজয় আমাদের প্রাপ্য।” টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার হাতছানি মিলিয়ে গেলেও বিশ্বকাপে নিজেদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ক্রোয়েশিয়ার কোচ। কৃতিত্ব দিলেন তিনি প্রতিপক্ষকেও। “আমরা জানি যে আমরা কেমন এবং আমরা কেমন নই। ব্যস! বিশ্বকাপের আগে যদি কেউ বলত আমরা এই পর্যন্ত আসব, আমরা হাসিমুখেই গ্রহণ করতাম। ক্রোয়েশিয়ার জন্য এটি দারুণ সাফল্য এবং আমরা গর্বিত।” “ফাইনালে ওঠায় আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন জানাই। কখনও কখনও ভাগ্যকে পাশে পাওয়া যায়, কখনও পাওয়া যায় না। এটিই ব্যাপার। আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।”