সংসদ সংবিধানের মূল স্তম্ভ বাতিল করতে পারে না : প্রধান বিচারপতি

72

prodhan-bichar-potiজাতীয় সংসদ চাইলেই অনেক কিছু পরিবর্তন করতে পারে কিন্তু সংবিধানের মূল স্তম্ভ বাতিল করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।  শনিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বাংলাদেশে বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদারের আইন পেশায় ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, জাতীয় সংসদ চাইলেই অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে পারে। সংবিধানকে বন্ধ করে দিতে পারে। সুপ্রিম কোর্টকে বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু সংবিধানের মূল স্তম্ভ বাতিল করতে পারবে না। এ সময় সংবিধানে কিছু অসাংবিধানিক অনুচ্ছেদ দ্রুত বাতিল করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ১১৬ এবং ১১৬-এর ‘ক’ অনুচ্ছেদের কারণে বিচারকদের শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সমস্যা হচ্ছে। এই অবৈধ অনুচ্ছেদের কারণে নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীনতার ৪৪ বছর ধরে সংবিধান রক্ষা করেছেন উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, যখনই সংবিধানকে লাইনচ্যুত করে বাঁকাপথে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তখনই সুপ্রিম কোর্ট এটিকে সোজা করে দিয়েছে। পবিত্র সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত হওয়া থেকে সুপ্রিম কোর্ট সব সময়ই রক্ষা করেছে। এ সময় আইনজীবীদের উদ্দেশে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আইনজীবীদের প্রাথমিক জীবন অনেক সময় কষ্টের এবং দুর্দশাগ্রস্ত হয়। তবে টাকার জন্য না দৌড়ে যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করতে তাঁদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আইন পেশা একটি সম্মানিত পেশা, আইনজীবীরা জাতির বিবেক উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং সংবিধান রক্ষায় আইনজীবীদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে। বিচারকরাও আইন পেশায় জড়িত থাকলেও তাঁরা চাইলেই সব কথা বলতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে আইনজীবীরা সহজেই অনেক কিছু বলতে পারেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। এ সময় আবদুল বাসেত মজুমদারকে দেশের ৫৭টি আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। নিজের বক্তব্যে বাসেত মজুমদার সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ১৯৬৬ সালে হাইকোর্টে আইন পেশা শুরু করেন তিনি। প্রথম দিকে অনেক দুঃখ দুর্দশায় জীবন কাটালেও পরে তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন বলে জানান এই আইনজীবী। নিজেকে গরিবের আইনজীবী উল্লেখ করে সব সময়ই দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান আবদুল বাসেত মজুমদার। তিনি বলেন, আইনজীবীদের কল্যাণে দেশের সব বারে বাসেত মজুমদার ট্রাস্ট নামে দুই লাখ টাকার একটি ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছেন। যেখান থেকে আইনজীবীদের প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জন্য ১০ লাখ টাকার ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান বিচারপতিসহ বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।