সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা

49

gourbangla logoসম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে কয়েক দফা জঘন্য হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার রেশ ধরে দেশের বেশ কিছু জায়গায় মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা হয়েছে। সেই রেশ না কাটতেই গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের বাড়িঘরে হামলা হয়েছে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর একের পর এক এমন হামলার ঘটনায় মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমে এসব ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে অনেকাংশে দায়ী করা হচ্ছে। এতে যেমন দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারকেও যথেষ্ট বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তার পরও হামলাকারীদের শনাক্ত করা কিংবা মূল হোতা বা পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নাসিরনগরের ঘটনায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছে। দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পর্কে জনমনে বিরূপ ধারণা জন্ম নিচ্ছে। পরে অবশ্য দল থেকে বলা হয়েছে, দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাজে লাগিয়ে বিরোধীপক্ষ এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা চাই, বক্তৃতা বা বিবৃতি না দিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। সেই কাজের ধীরগতি দেশবাসীকে ব্যথিত করছে। নাসিরনগরে হামলার শিকার জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হামলাকারীদের সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য না দিলেও গোবিন্দগঞ্জের ঘটনায় সাঁওতালরা স্পষ্ট করেই জড়িতদের নামধাম উল্লেখ করে বক্তব্য দিচ্ছে। কারা কী আশ্বাস দিয়ে তাদের মাঠে নামিয়েছে, কিভাবে কত দিনে কত টাকা তাদের কাছ থেকে কে কে নিয়েছে, তা-ও তারা উল্লেখ করেছে। শিল্প মন্ত্রণালয় বা চিনিকলের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যেও ঘটনার নেপথ্যে কারা কিভাবে কাজ করেছে, তার উল্লেখ পাওয়া যায়। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় প্রভাবশালীরা চিনিকলের জমি গ্রাস করার জন্য সাঁওতালদের ব্যবহার করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন? গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন?  বাংলাদেশে খুন-খারাবিসহ নানা ধরনের অপরাধ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সমাজবিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ বিচারহীনতা বা বিচারের দীর্ঘসূত্রতা। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। অপরাধীরা যখন রাজনৈতিক প্রশ্রয় বা মদদ পায়, তখন তা ভয়াবহ রূপ নেয়। বাংলাদেশের অবস্থা এখন তা-ই হয়েছে। দলীয় কোন্দলে প্রতিনিয়ত খুনাখুনি হচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সংঘাতে জীবন যাচ্ছে। জায়গাজমির দখলসহ নানাবিধ স্বার্থের সংঘাতেও রক্ত ঝরছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক অপরাধী বড় বড় অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। পাশাপাশি গৃহহীন সাঁওতালদের জন্য দ্রুত আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণেরও ব্যবস্থা করতে হবে।