বৃষ্টিনির্ভর আমন আবাদে এবার ভরসা গভীর নলকূপ

19

চলছে বর্ষাকাল অথচ বৃষ্টির দেখা নেই। শুকিয়ে কাঠ হচ্ছে রোপা আমন ক্ষেত, তীব্র খরায় পুড়ছে কৃষকের বীজতলা। ব্যাহত হচ্ছে আবাদ। বাধ্য হয়ে সেচের আশ্রয় নিতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে অধিক খরচ গুণতে হচ্ছে তাদের। প্রচ- তাপে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
কৃষকরা বলছেন, এই সময়টাতে রোপা আমনের জমি তৈরিতে ব্যস্ত থাকার কথা তাদের এবং সিংহভাগ জমিও চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। অথচ মাঝ বর্ষাতেও বৃষ্টি না হওয়ায় অলস সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের। আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনা অনেকটা হতাশায় ফেলেছে কৃষকদের।
গোমস্তাপুর উপজেলার কৃষক এরশাদ আলী বলেন, আমন চাষাবাদের মৌসুমে বৃষ্টি নেই, মাঠ খাঁ খাঁ করছে। এ সময় জমির আইলগুলো ঠিক করে রাখছি। কিন্তু সূর্যের তাপে জমিতে কাজ করতে পারছি না। কিছুক্ষণ পর মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা কাজ করে মাঠ ছেড়ে বাড়ি চলে আসতে হচ্ছে।
নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের এক গভীর নলকূপ চালক জানান, এর আগের বছরগুলোতে আমন আবাদের জন্য সারা দিনে ২ ঘণ্টা ডিপ (গভীর নলকূপ) চালালেও হতো। কিন্তু এবার বিদ্যুৎ থাকলে ২৪ ঘণ্টায় ডিপ চালাতে হচ্ছে, শুধুমাত্র অধিক খরার কারণে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, গত জুন মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গড় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৭৫ মিলিমিটার এবং জুলাই মাসে এ পর্যন্ত মাত্র ১৭ মিলিমিটার। গত কয়েকদিনের তাপমাত্রাও ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তিনি জানান, অন্যান্য বর্ষায় ১৫শ থেকে ১৬শ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এবার কম হচ্ছে। তবে রোপা আমনের চারা রোপণের এখনো বেশ কিছুটা সময় আছে। আগামী ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময় পর্য়ন্ত চারা রোপণ করা যাবে। তিনি জানান, এবার ৫০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেনÑ রোপা আমন আবাদ সাধারণত বৃষ্টিনির্ভর হয়ে থাকে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে সেচের দরকার হয় না। কিন্তু এবার বৃষ্টি না থাকায় কিছু কিছু কৃষক সেচের পানিতে আবাদ শুরু করেছেন। এতে তাদের খরচ বেশি হচ্ছে। তিনি বলেনÑ ৫০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির মধ্যে ৮০ শতাংশ জমি সেচের আওতায় রয়েছে।
এদিকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জেলায় ১ হাজার ৫৭৫টি গভীর নলকূপ সেচের জন্য চালু রয়েছে। যেসব কৃষক এই নলকূপের পানি ব্যবহার করছে তাদের আবাদের মোট খরচের ৩০ শতাংশ খরচ বেশি হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, জেলায় ২০১০ সালে জেলায় বৃষ্টি হয় ৯২৯ মিলিমিটার, ২০১১ সালে ১ হাজার ৭৩২ মিলিমিটার, ২০১২ সালে ৯২২ মিলিমিটার, ২০১৩ সালে ১ হাজার ২৪৪ মিলিমিটার, ২০১৪ সালে ১৩৮০ মিলিমিটার, ২০১৫ সালে ১৬২৪ মিলিমিটার, ২০১৬ সালে ১৫১১ মিলিমিটার, ২০১৭ সালে ১৩৩৩ মিলিমিটার, ২০১৮ সালে ১১৯০ মিলিমিটার, ২০১৯ সালে ১২৯৭ মিলিমিটার, ২০২০ সালে ১৩৮০ মিলিমিটার এবং ২০২১ সালে ১৩৩৮ মিলিমিটার গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।