শেষের পথে মোশাররফ-পার্নোর সিনেমার শুটিং

9

কথাসাহিত্যিক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীরের ‘বিলডাকিনি’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি চলচ্চিত্রে মোশাররফ করিম-পার্নো মিত্র কাজ করছেন বাংলাদেশে। টানা এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার বাইরের একাধিক লোকেশনে চলছে ছবিটির শুটিং। ছবিটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম। তাকে দেখা যাবে মাঝির চরিত্রে। ছবিটির শুটিংয়ে এখন নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ে আছেন এই অভিনেতা। হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে চলছে শুটিং। ছবিটি প্রসঙ্গে এর কাহিনিকার নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘চলচ্চিত্রটি এ সমাজের নারী জীবন নিয়ে। যে জীবনের সংগ্রাম সমাজের বৈপরিত্যে ঘটে। গ্রামীণ জীবনের নারীদের এই জাগরণই তুলে ধরা হচ্ছে ছবিটিতে।’ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া এই ছবির শুটিং নিয়ে বারবার বিপত্তি দেখা দেয়।

তবে সব সংকট পেরিয়েই ছবিটি বর্তমানে নির্মাণ করছেন পরিচালক ফজলুল কবীর। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে আত্রাইয়ের পতিসরে শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন মোশাররফ করিম। ছবিতে তার সহ-অভিনেত্রী পার্নো মিত্র। পার্নো কলকাতা থেকে ঢাকায় এসেই সরাসরি আত্রাই শুটিংস্পটে চলে যান। তবে ছবিটির কাজ শেষ করে ঢাকায় একদিন থেকে আবার কলকাতা ফিরবেন বলে জানান। ছবিটির শুটিং চলবে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এদিকে মোশাররফ করিমের বিপরীতে পার্নো মিত্রকে কাস্ট করা নিয়েও নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।

এ প্রসঙ্গে নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দেখুন, ছবির গল্প-চরিত্রে যাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে তাকেই নেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালা মেনেই ছবির সবকিছু কাজ করা হচ্ছে। পার্নো এর আগেও বাংলাদেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। আমার মতে আমাদের দেশের দারুণ মেধাবী মোশাররফ করিমের সঙ্গে ওপারের মেধাবী অভিনেত্রী পার্নো মিত্রের রসায়নটা দর্শকরা উপভোগ করবে।’ দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম বলেন, ‘আমার কাছে প্রতিটি কাজই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিজের কাছে কাজটি গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলে সেই কাজটি আমি করি না। সিনেমার ক্ষেত্রে তো আরো না। এই ছবিটি দারুণ এক প্লটে তৈরি।

সব মিলিয়ে টোটাল টিমওয়ার্কটা ভালো হলে দারুণ কিছু দাঁড়াবে বলে আমার বিশ্বাস।’ উল্লেখ্য, পার্নো মিত্র এর আগে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ডুব’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া মোশাররফ করিম এদেশের একাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। আর টিভি ইন্ডাস্ট্রিতে মোশাররফ করিম তো এত অনবদ্য শিল্পীর নাম। ‘বিলডাকিনি’ ছবির বাইরে মোশাররফ করিম অভিনীত আরো একটি অনুদানের ছবি রয়েছে।

ছবিটির নাম ‘মুখোশ’। তবে সরকারি অনুদানের ছবিতে দর্শকদের অনাগ্রহ থাকে-এমন অপবাদ দূর করতে চান ছবিটির কলাকুশলীরা। এ প্রসঙ্গে ছবিটির কাহিনিকার নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দেখুন, দর্শকদের কৌতুহলের কথা চিন্তা করেই কিন্তু আমরা এই কাস্টিং করেছি। তাই অনেকে অনেক কথা বলবেই। দিনশেষে চলচ্চিত্রটি ভালোভাবে নির্মাণ করা হলে সকলেই এর মুগ্ধতা কুড়াবে। সেই বিশ্বাসেই কাজটি খুব যতœ নিয়ে করা হচ্ছে।