শেখ জামালের জয়ের নায়ক সাইফ হাসান

6

স্বপ্নের মতো সময় কাটছে অমিত হাসানের। লাল বলে দারুণ সময় কাটানো ক্রিকেটার সাদা বলে ফিরেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করছেন। সর্বশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগে ১১ ইনিংসে ৫৯ গড়ে ২ সেঞ্চুরি ও ২ হাফসেঞ্চুরিতে ৫৯০ রান করে ছিলেন। ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগেও ৬ ইনিংসে দুই সেঞ্চুরিতে ৪০ গড়ে ৩২২ রান করেছিলেন। বুধবার ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগের প্রথম ম্যাচে খেলাঘরের হয়ে খেললেন অপরাজিত ১০৭ রানের ইনিংস। তার এমন ইনিংস ম্লান করে দিয়ে ব্যাট-বলে শেখ জামালের জয়ের নায়ক সাইফ হাসান। তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে শেখ জামাল ১৪ বল হাতে রেখে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছে। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে বুধবার শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের বিপক্ষে ১৩৬ বলে ১২ চারে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেছেন অমিত।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার প্রথম সেঞ্চুরিতেই ৭ উইকেটে ২২১ রান করেছে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। সহজ এই লক্ষ্যে খেলতে নেমে শেখ জামালের দুই ওপেনার সৈকত আলী ও সাইফ হাসান মিলে ১১১ রান যোগ করেছেন। তাদের জুটিতেই ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় শেখ জামাল। সৈকত আলী ৫৮ বলে ৬৩ রান করে ফেরার পর ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ৩০ রানের জুটি গড়ে আউট হন সাইফ। ৯২ বলে ৬ চারে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া এই ব্যাটার। ইমরুল কায়েসও ২৫ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন। এরপর জয়ের খুব কাছে গিয়ে ৬৯ বলে ৪৭ রান করে আউট হন জহুরুল ইসলাম অমি। বাকি পথটুকু সহজেই পাড়ি দেন নুরুল হাসান সোহান (২৫*) ও পারভেজ রসূল (৩*)।

খেলাঘরের হোসেন আলী সর্বোচ্চ দুটি এবং অশোক মেনারিয়া ও নাদিফ চৌধুরী একটি করে উইকেট নেন। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে খেলাঘরের শুরুটা ছিল মন্থর। পঞ্চম ওভারে পিনাক ঘোষ ফিরে যাওয়ার সময় দলের রান ছিল কেবল ১১। এরপর প্রীতম কুমারের সঙ্গে ৫৩ রানের জুটি গড়েন অমিত। প্রীতম ৩৬ বলে ২৬ রান করে আউট হতেই একের পর এক ব্যাটারের বিদায়ে খেলাঘরের হাল ধরেন অমিত হাসান।

ভারতীয় ব্যাটার অশোক মেনারিয়ার সঙ্গে ৭৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। মেনারিয়া ৩২ রানে আউট হলেও একপ্রান্ত আগলে ব্যাটিং করতে থাকেন অমিত। শেষ দিকে মাসুম খানের সঙ্গে গড়েন আরও একটি জুটি (৪৫ রানের)। মাসুম ৩০ রানে আউট হলেও অমিত অপরাজিত ছিলেন ১০৭ রানে। সবমিলিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান করে খেলাঘর। বুধবার এই ইনিংস খেলার পথে অমিত প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে এই বছর পেরিয়ে গেছেন এক হাজার রানের মাইলফলকও। ব্যাট হাতে ৬৩ রান করা সাইফ হাসান বল হাতেও নিয়েছেন তিনটি উইকেট। এ ছাড়া মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী দুটি উইকেট নিয়েছেন।