শুরুতেই অঘটনের শিকার সেরেনা

3

গত বছর আঘাত হেনেছিল চোট, এবার প্রতিপক্ষের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। ফলাফল একই-উইম্বলডনের প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে গেলেন সেরেনা উইলিয়ামস। আসরের শুরুতেই অঘটনের শিকার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই তারকার কণ্ঠে ফুটে উঠল তীব্র হতাশা। ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। সেন্টার কোর্টে মঙ্গলবার গভীর-রাতে শেষ হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেন অখ্যাত হার্মোনি ট্যান। প্রতিপক্ষ ২৩ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী হলেও তাতে ঘাবড়ে যাননি র‌্যাঙ্কিংয়ের ১১৫ নম্বর ফরাসি খেলোয়াড়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম সেটে হারের পর দ্বিতীয় সেটে দাপুটে পারফরম্যান্সে ঘুরে দাঁড়ান সেরেনা। ম্যাচ নির্ধারণী সেটে লড়াই জমে ওঠে তুমুল। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গিয়ে আর পারেননি আগামী সেপ্টেম্বরে ৪১ বছর পূর্ণ করতে যাওয়া সেরেনা। শেষ পর্যন্ত ৭-৫, ১-৬, ৭-৬ (১০-৭) গেমের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেন ২৪ বছর বয়সী ট্যান।

৪০ বছর বয়সে গত আসরে এখান থেকে চোটের ধাক্কায় ছিটকে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছিল, সেটাই কি উইম্বলডনের শেষ হয়ে থাকবে সেরেনার? না, মাঠে নেমেই সেটার জবাব দিলেন তিনি। আরও একবার শুরুতেই ছিটকে যাওয়ার পর একই প্রশ্ন উঠল আবারও, ম্যাচ শেষে তার জবাবও দিলেন উইম্বলডনে নারী এককের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন। “এটা এমন একটা প্রশ্ন, যার উত্তর আমি দিতে পারব না। আমি জানি না। কে জানে আমি আবার কোথায় নিজেকে ফিরে পাব?” সেরেনা সবশেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন সেই ২০১৭ সালে। সেটাই তার ২৩তম। এরপর থেকে সেরেনা কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামে পা রাখলেই শুরু হয়, তার মার্গারেট কোর্টের ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড ছোঁয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা, ক্ষণগণনা।

কিন্তু সেই অপেক্ষার আর শেষ হয়নি। বয়সের ভার, পারফরম্যান্সের অবনতি-সবকিছু মিলে ওই স্বপ্ন ছোঁয়াটা তার জন্য এখন রীতিমত অসম্ভবই মনে হচ্ছে। তবে হাল ছাড়তে রাজি নন সেরেনা। যে কোর্টে পেয়েছেন অনেক সাফল্য, সেখানে শেষটা এমন বিবর্ণ চাননি সেরেনা। “অবশ্যই না, আপনারা আমাকে চেনেন। এমন কিছু অবশ্যই চাইনি।” “আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি। হয়তো আগামীকাল আমি আরও বেশি দিতে পারতাম। হয়তো এক সপ্তাহ আগেও তাই দিতে পারতাম। তবে আজ আমি এতটাই পেরেছি।”