শীত এলে মনে পড়ে ধুনরিদের কথা

31

সামিউল সিফাত

ঋতুর হিসাবে এখন হেমন্ত। আর ক’দিন পরই শুরু হবে শীতকাল। তবে হেমন্তের শেষ ভাগে এসে শুরু হয়ে গেছে শীতের আগমনী বার্তা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাড়া-মহল্লায় ধুনরিদের ব্যস্ততা এবং বাজারে শীতের পোশাক সে আগমনী বার্তাই দেয়। আর শীত এলেই মনে পড়ে ধুনরিদের কথা।
ষড়ঋতুর এ দেশে একেকটি ঋতু আসে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়ে। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের ধকলে দেশে ঋতুর কাল বদলে যাচ্ছে। প্রকৃতি দেখে বোঝার উপায় নেই এখন কোন ঋতু। ঋতুবৈচিত্র্যের পালাবদলে গ্রীষ্ম-বর্ষা এখন একাকার।
তবুও শীত আসে। জেঁকে বসে তীব্র আকারে। এই সময়টাতে চাহিদা বেড়ে যায় ধুনরিদের। অর্থাৎ যারা লেপ-তোষক তৈরি করেন তাদের। গরম কাপড় কেনার ধুম পড়ে যায় ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত দোকানগুলোতেও। অর্থনৈতিক বিচারে এসব জায়গায় কেনাকাটা করে থাকে মানুষ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের পাড়া-মহল্লায় ধুনরিদের ব্যস্ততা শীতের আগমনী বার্তা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তাই সময় থাকতে মানুষ ছুটছেন লেপ বানাতে ঠা-া নিবারণের উদ্দেশ্যে। কারিগররাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন লেপ বানাতে। এ সময়টাতেই তাদের আয়টা একটু বেশিই হয়ে থাকে। তবে বাজারে নিত্যনতুন বাহারি কম্বলের চাপে ‘বিপদগ্রস্ত’ হচ্ছেন ধুনরিরা। কম্বল ছেড়ে বর্তমানে লেপ বানানো মানুষের সংখ্যাটা কমে আসছে।
জেলা শহরের পুরাতন বাজার, জেলা নির্বাচন অফিস সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে বানানো হচ্ছে লেপ। এছাড়া পাড়া-মহল্লাতেও চলছে এ কাজ। কেউ স্থায়ী আবার কেউ অস্থায়ীভাবে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলাপ হয় পুরাতন বাজারের ধুনরি মামুন ও নাজিরের সঙ্গে। বংশপরম্পরায় ২৫-২৬ বছর ধরে তারা এ পেশায় যুক্ত রয়েছেন। তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করছে। তবে তারা চান না তাদের ছেলেমেয়েরা এ পেশায় আসুক। তাদের আক্ষেপ, শীত এলেই শুধু ধুনরিদের কথা মনে পড়ে।
মামুন ও নাজির জানান, এবার বাজারে এখনো লেপের চাহিদা পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে তাদের আশা, এবার লেপের চাহিদা বাড়বে। আর মজুরি বিষয়ে তারা জানান, প্রকার ভেদে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত তারা মজুরি নিয়ে থাকেন লেপের ক্ষেত্রে। তোষকের ক্ষেত্রে সেটা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। একেকটি লেপ-তোষক বানাতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।
জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই এ পেশায় যুক্ত নাসির আলী। কাজ করেন শহরের পুরাতন বাজারে। এ পেশায় জড়িতদের মধ্যে বেশির ভাগই শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা, বিনোদপুর, খাসেরহাট এলাকার বলে জানান তিনি। তার বক্তব্য, বংশপরম্পরার এ পেশাটাকে ছাড়তে পারেননি।
দুই ছেলেকে নিয়ে লেপ-তোষক বানিয়ে যাচ্ছেন ধুনরি যোদ্ধা আলী। নির্বাচন অফিসের পাশে ‘সাগর এন্টারপ্রাইজ’ নামে অস্থায়ী দোকান রয়েছে তার। দুই ছেলের একজনের পড়াশোনা ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত। আরেকজন এবার জেএসসি দিয়েছে। ছুটির ফাঁকে সেও বাবার সঙ্গে কাজে লেগে পড়েছে।
লেপ-তোষকের প্রধান উপকরণ তুলা। আর বাজারে ৪০ থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের তুলা। এমনটাই জানালেন শামীম ম্যাট্রেস অ্যান্ড ফেব্রিকসের কাজেম আলী। শিমুল তুলার দামটা বেশি। ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এ তুলা বলে জানান তিনি।