শিবগঞ্জে সৈয়দ নজরুলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সংবাদ সম্মেলন

34

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে পরাজিত ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলামের ১২ সমর্থকের বাড়িতে হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজয়ী নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল।
মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলামের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ব্যানারে শিবগঞ্জ ডাকবাংলো চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম টুটুল খাঁন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহম্মদ নাজমুল কবির মুক্তাসহ তিনটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় মুক্তার বাড়ির বৈঠকঘরের আসবাবপত্র, ২টি মোটরসাইকেলসহ আরো ৩টি বাড়ি ভাংচুর করে পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের বাধা দিতে গিয়ে তার চাচাতো ভাই বাবুল হোসেন আহত হয়।
এছাড়া গত রবিবার রাতে মোবারকপুর ইউনিয়নের কান্তিনগর এলাকায় জেলা মহিলা লীগের সহসভাপতি নুরজাহান বেগমের বাড়িসহ দুটি বাড়িতে, একই দিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোহুর আহমেদের বাড়িতে, সোমবার সকালে ঘোড়াপাখিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িসহ দুটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের লোকজন। একই দিন সন্ধ্যায় বিনোদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ^নাথপুর গ্রামের ট্রাক প্রতীকের সমর্থক মাহবুব আলমকে আহত করা হয়। এছাড়া ওইদিন বিকেলে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার পিঠালীতলা মহল্লায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ট্রাক প্রতীকের সমর্থক ইব্রাহিমের বাড়িতে, ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের বহলাবাড়ী মোড়ে একটি দোকানে হামলা চালিয়ে একজনকে বেধড়ক মারপিট করে, উজিরপুর ইউনিয়নের ট্রাক প্রতীকের একটি অফিসে আগুন দেয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সৈয়দ নজরুল ইসলামের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ নাজমুল কবির মুক্তা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল আওয়াল গণি জোহাসহ অন্যরা।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু আহমেদ নাজমুল কবির মুক্তা মিয়া ভিলেজ পলিটিক্স করার কারণে তাদের নিজেদের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর অন্যান্য যেসব জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হামলার ঘটনা বলছেন তা সবই বানোয়াট ও তাদের নিজেদের দ্বন্দ্ব। বরং যারা তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে তারাই উল্টো প্রতিশোধ নিতে হামলা করছে। এসব ঘটনায় তার কোনো নেতা বা কর্মী জড়িত নয়। অথচ তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী পরাজিত হয়ে ব্যক্তিগত সমস্যাকে রাজনৈতিক রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ সময় তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, নৌকা সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও তার সকল নেতাকর্মীকে চুপ করে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৬টি ঘটনা ঘটেছে। ৪টি ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। তার মধ্যে ছত্রাজিতপুর, ঘোড়াপাখিয়া ও মোবারকপুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মোবারকপুরে নুরজাহান বেগমসহ দুজনের বাড়িতে ভাঙচুর ও হামলার বিষয়টি তদন্তনাধীন। অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে সবাইকে ধরার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। অভিযোগে যাদের নাম আছে তারা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে চেষ্টা চলছে।