দৈনিক গৌড় বাংলা

শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

শিবগঞ্জে জোড়া খুন

আরো ৪ জন গ্রেপ্তার ২৯ ককটেল উদ্ধার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুস সালামসহ জোড়া খুনের মামলায় আরো ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মধ্যে একজনের দেয়া তথ্যমতে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের ঢোড়বোনা গ্রামের ঢোড়বোনা পশ্চিমপাড়া কবরস্থান ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩টি বালতিতে ২৯ ককটেল উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারের সময় ৪টি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। রাজশাহী থেকে আসা বোমা ডিসপোজাল দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলেই ককটেলগুলো ধ্বংস করে ফেলেন।
অভিযানে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের নবাবগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন- রবিবার দিবাগত রাতে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে জেলা পরিষদ সদস্য ও নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ জোড়া খুনের মামলার ৪ জন আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে আজম আলী নামের একজনের স্বীকারোক্তি মোতাবেক সোমবার রাতে তাকে নিয়ে ঢোড়বোনা এলাকার পশ্চিমপাড়া গোরস্থানে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরকের সন্ধানে তল্লাশি আরম্ভ করে ডিবি পুলিশ ও বোমা ডিসপোজাল ইউনিট। মাটির নিচে লুকানো অবস্থায় থাকায় এবং বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, গ্রামপুলিশ, জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়। পরে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। উদ্ধার অভিযানে রাজশাহী মহানগরীর ৫ সদস্যের বোমা ডিসপোজাল দল অংশগ্রহণ করেন।
তিনি জানান, ৩টি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে একটি বালতি থেকে ১২টি, অপর একটি বালতি থেকে ১০টি এবং একটি সবজি ক্ষেত থেকে একটি কাপড়ের ব্যাগে রাখা ৭টি ককটেল উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে ধ্বংস করা হয়। ককটেলগুলো উদ্ধারের আগেই আরো ৪টি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। অভিযানে চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও হত্যাকা-ে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপর এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়াও অপর অভিযানে আরো ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন করে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত এমন আসামিও রয়েছে।
অভিযান চলাকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. নূরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবাবগঞ্জ সার্কেল) মো. জাহাঙ্গীর আলম, শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুন রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি কলেজের সামনে নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম দুর্বৃত্তদের হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং সেখানে থাকা হরিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল মতিন গুরুতর আহত হন। তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনিও মারা যান। এ ঘটনায় আব্দুস সালামের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম বাদী হয়ে নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশরাফুল হককে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় শিবগঞ্জ থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
নতুন করে গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শিবগঞ্জে ঢোরবোনা গ্রামের জেন্টু আলীর ছেলে আজম আলী (৩৯), একই এলাকার ময়েজ আলীর ছেলে সাহেব আলী (২২), সদর উপজেলার বোলতলা চকবহরম গ্রামের যুবায়ের রহমানের ছেলে তাজ হাসান হৃদয় (২১) ও শিবগঞ্জের রশিকনগর গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে ফিরোজ (২৮)।
এদের মধ্যে সাহেব আলী ও তাজ হাসান হৃদয় মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আসগর আলী।

About The Author