শিবগঞ্জে করলা চাষে স্বাবলম্বী কলেজ ছাত্র মুসফিক

126

Shibganj Pic-----1 (Small)16চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মুসফিক রায়হান রাজ নামে এক কলেজ ছাত্র লেখাপড়ার পাশাপাশি করলা আবাদ করে লেখাপড়ার খরচ বাদেও নিজে স্বাবলম্বী হতে চলেছে। মুসফিক রায়হান রাজের বাড়ি উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের চৌকা খড়িয়াল গ্রামে। মুসফিক রায়হান শিবগঞ্জ স্নাতক মহাবিদ্যালয়ে বি. এ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পিতা বেকার ও মা গৃহিনী। বৃহস্পতিবার সকালে তার আবাদ করা করলার জমিতে কথা হয় এ প্রতিবেদকের সাথে। তিনি জানান, তার মা মুরগী পালন করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেন। সেই ৩০ হাজার টাকা দিয়ে মুসফিক রায়হান ও একই গ্রামের জয়নাল আবেদীন চৌকা খড়িয়াল মাঠে বিনোদপুরের কালু মেম্বারের নিকট হতে ২ বিঘা জমি বাৎসরিক ১১ হাজার টাকায় (বিঘা প্রতি সাড়ে ৫ হাজার টাকা) বর্গা নিয়ে করলার আবাদ শুরু করে। এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। গত একমাসে করলা উত্তোলন করা হয়েছে প্রায় ৪০ মণ। দিন দিন করলার ফলন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরও জানান, আগামী বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই আরো প্রায় ৮০ থেকে ১শ’ মণ করলা পাওয়া যাবে। প্রতিমণ করলা গড়ে ৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তার আশা, এক মৌসুমে প্রায় সোয়া লাখ টাকার করলা বিক্রি করতে পারবে। তাতে খরচ বাদে আয় হবে প্রায় ৯৫ হাজার টাকা। ফাল্গুন মাসের বৃষ্টিতে করলার জমির ক্ষতি না হলে আয় আরো বেশি হতো।
মুসফিক রায়হান তার অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমাদের দেশে চাকুরী খোঁজতে গিয়ে কেউ চাকুরি পাচ্ছে, আবার কেউ প্রতারণায় পড়ে নি:স্ব হয়ে যাচ্ছে। তাই আমি লেখাপাড়ার পাশাপাশি কৃষি কাজ শুরু করেছি এবং ভবিষ্যতে প্রমাণ করবো শুধু চাকুরিই বেকার সমস্যার সমাধান নয়। তিনি আরো বলেন, কোন কৃষি অফিসারের সাথে আলাপ আলোচনা ছাড়াই নিজে টেলিভিশনে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে ও পত্রিকার কৃষি বিষয়ক পাতা থেকে করলাসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের প্রক্রিয়াগুলি জেনে করলা চাষ শুরু করি। আমার বিশ্বাস আমার মত আরও অনেক শিক্ষিত যুবক এ পেশায নিয়োজিত হবে।