শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই : ওবায়দুল কাদের

67

2015-05-23_bss-50_209928সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন নেই। আলোচনার টেবিল খোলা রয়েছে। যারা শান্তি চুক্তি করেছে তারাই বাস্তবায়ন করবে। বুধবার সকাল ১১টায় রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের গণসংবর্ধনা ও কর্মী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আর এ সরকারের আমলে এ সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর। এ সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভাট ও ইন্টারনেটসহ পাহাড়ে উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে তার সবটুকু আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান। এসময় মন্ত্রী সন্তু লারমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি হওয়ার কারণে মানুষ আজ পাহাড়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে শান্তিতে বসবাস করতে হলে অবৈধ অস্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ সময় মন্ত্রী বলেন, আমি গণসংবর্ধনাকে ঘৃণা করি, কারণ আমি মাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। আমার এখনো অনেক কাজ বাকী। তিনি জেলার নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণসংবর্ধনা নয়, গণসংযোগ করুন। গণসংযোগের মাধ্যমে জনগণকে ভালোবাসেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, যদি পাহাড়ের উন্নয়ন চান, বৈষম্যের অবসান চান শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকুন। ভূমি বিরোধ হলো এক নম্বর সংকট এখানে। এরও সমাধান প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, শান্তিচুক্তি রাতারাতি হয়ে যায়নি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে শেখ হাসিনা সরকার শান্তিচুক্তি করেছে। এরশাদ থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার সরকার চুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা চালিয়েছে, কিন্তু কেউ সফল হয়নি। একমাত্র হাসিনা সরকারই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। এখন চুক্তি নিয়ে দেখা যায় মায়ের থেকে মাসির দরদ বেশি। আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, চুক্তি নিয়ে কোনো সমস্যা হলে টেবিল আছে। আমরা টেবিলে বসে কথা বলতে পারি। চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা আসলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করুন। দেখা করতে কোনো বাধা আসলে আমাকে বলুন। আমিই সব ব্যবস্থা করব। তার জন্য আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। তিনি সন্তু লারমার উদ্দেশে বলেন, অশান্তি সৃষ্টির উসকানিদাতাদের প্রশ্রয় দেবেন না। পাহাড়ে আর রক্ত চাই না, এখানে অনেক রক্ত ঝরেছে। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, পাহাড়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেছেন। চুক্তির আগে আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য পানছড়ির দুর্গম দুদুকছড়ায় গিয়েছিলাম। আপনার কষ্ট দেখেছি। সেই আপনাকেই প্রধানমন্ত্রী গাড়িতে দেশের পতাকা তুলে দিয়েছেন। তিনি আপনাকে যে সম্মান তুলে দিয়েছেন, তা ধরে রাখার দায়িত্ব আপনার। তিন পার্বত্য জেলার মানুষের ভালোবাসার মাধ্যমে আপনি সেই সম্মান বজায় রাখবেন বলে আশা রাখছি। তিনি চুক্তির বিষয়ে বলেন, সমাধানের জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। অধৈর্য হলে কোনো কিছু পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অবৈধ অস্ত্র দিয়ে শান্তি স্থাপন সম্ভব নয়। তিনি এ সময় রাঙামাটির বিভিন্ন উন্নয়ন কাজগুলো তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতা দীপংকর তালুকদার। সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর। ওবায়দুল কাদের সমাবেশ শেষে দুপুরেই বান্দরবানের উদ্দেশে রাঙামাটি ত্যাগ করেন।