শান্তিচুক্তির ১৯ বছর

93

gourbangla logoদেশের মানুষের মনে ব্যাপক প্রত্যাশা জাগিয়ে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। চুক্তির ফলে শান্তিবাহিনীর সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ হলেও ১৯ বছর পর দেখা যাচ্ছে, সে অর্থে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেনি। বরং সেখানে এখনো ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। সরকারপক্ষের দাবি-চুক্তির বেশির ভাগই পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও সংশ্লিষ্টরা বলছে, বেশির ভাগই পূরণ হয়নি। বাস্তবায়িত বিষয়গুলো মৌলিক নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো সরকার মুঠোবন্দি করে রেখেছে। ভূমিবিরোধসহ আরো অনেক সমস্যাই এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সেখানকার মানুষের এসব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দূর করতে শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত মঙ্গলবার খাগড়াছড়িতে বলেছেন, শান্তিচুক্তির বেশির ভাগ ধারা বাস্তবায়ন হয়ে গেছে। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগেই চুক্তির ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন হবে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির অভিযোগ, চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেনি। পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম সমস্যা ভূমিবিরোধ; নিষ্পত্তিতে আইন সংশোধন হলেও এর কোনো বিধিমালা করা হয়নি। ফলে আইন বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। অথচ মূল আইনে ছয় মাসের মধ্যে বিধিমালা করার বাধ্যবাধকতা ছিল। উপজাতীয় শরণার্থীদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হলেও বেশির ভাগ শরণার্থী জমি ও ভিটেমাটি ফেরত পায়নি। ভূমিহীন জুম্মদের ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বান্দরবান জেলায় ৫৯৩টি প্লট বাতিলের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার আন্তরিক; কমিশন কাজ শুরু করেছে। ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি করতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলেও সরকারপক্ষের অভিমত। ধারণা করা যেতে পারে, সরকার ও পাহাড়িদের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে। এই সংকট দূর করতে পারলে সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের পর দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান হয়েছিল। শান্তিবাহিনীর সদস্যরা তাঁদের কাছে থাকা অস্ত্র, গোলাবারুদ সমর্পণ করেছিলেন। শুরু হয়েছিল শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন অনেকটা থমকে যায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে সব মহল থেকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। পার্বত্য এলাকায় শান্তি বিরাজ করুকÑএটা সবারই চাওয়া। শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হবে প্রত্যাশিত শান্তির সুবাতাস। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় আঞ্চলিক পরিষদ ও বাঙালি সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। সব মতবিরোধ দূর করে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এ প্রত্যাশা সবার।