শহীদ নূর হোসেন দিবস

25

১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন নূর হোসেন। ওই আন্দোলনে তিনি বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’, ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগান ধারণ করে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। মিছিলটি গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে পৌঁছানোর পর এর পুরোভাগে থাকা নূর হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর তাজা রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। তার মৃত্যুতে বেগবান হয় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।
নূর হোসেনের আত্মাহুতির স্থানটি এখন ‘শহীদ নূর হোসেন চত্বর’ নামে পরিচিত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রতিবছর শহীদ নূর হোসেন দিবস পালন করে। এ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি নিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘আমি নূর হোসেনসহ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারী সকল শহীদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সকলে সচেষ্ট থাকবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতষ্ঠার সংগ্রামে ১০ নভেম্বর এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের সাহসী সৈনিক নূর হোসেন ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তিপাক’ এই স্লোগান শরীরে ধারণ করে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন।’ আবদুল হামিদ বলেন, ‘সেদিন প্রতিবাদের পুরোভাগে থাকা শহীদ নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। আমি শহীদ নূর হোসেন দিবসে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি নূর হোসেনসহ গণতন্ত্রের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সকল শহিদের।’