দৈনিক গৌড় বাংলা

শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

শরিফুল-তাসকিনদের আগুনে পুড়লো শেখ জামাল

ঘড়ির কাঁটা তখন দুপুর ১২টা পেরিয়েছে মাত্র। মাঠে অনুশীলনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন আফিফ হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলিরা। সকালে ম্যাচ খেলতেই নেমেছিলেন তারা। কিন্তু খেলা ততক্ষণে শেষ। ব্যাটিংয়েও নামতে হয়নি তাদেরকে। তাই নিজেদের একটু ঝালিয়ে নেওয়া আর কী! এই ঘটনা থেকে ম্যাচের অবস্থা বুঝে নেওয়া যায় সহজে। ১০০ ওভারের ম্যাচ শেষ ৩৩ ওভারেই। তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দাপুটে জয়ে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরও এগিয়ে গেল অপ্রতিরোধ্য আবাহনী লিমিটেড। অথচ ম্যাচটিকে ঘিরে উত্তেজনার রসদ ছিল যথেষ্টই। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর সঙ্গে রানার্স-আপ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের লড়াই বলে কথা। পয়েন্ট তালিকাতে এবারও এগিয়ে এই দুই দলই। কিন্তু তাদের মুখোমুখি দেখায় কোনো উত্তাপই টের পাওয়া গেল না মাঠে। শেখ জামাল পারল না লড়াইয়ের কোনো সম্ভাবনা জাগাতেই। বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর দাপুটে ব্যাটিংয়ে ১০ উইকেটের জয়ে অব্যাহই থাকল আবাহনীর অপরাজেয় পথচলা।

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার প্রাথমিক পর্বে দুই দলের শেষ ম্যাচে শেখ জামালকে ¯্রফে ৮৮ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে রান তাড়ায় ১০.২ ওভারে ম্যাচ জিতে যায় আবাহনী। শেখ জামালের টপ-অর্ডারে ধস নামান তিন পেসার শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান। পরে দ্বিতীয় স্পেলে নিচের দিকেও তোপ দাগান শরিফুল। সব মিলিয়ে ৩৫ রানে ৪ উইকেট নেন তরুণ বাঁহাতি পেসার। পরে ছোট লক্ষ্য তাড়ায় অনায়াসেই দলকে জিতিয়ে দেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও এনামুল হক। সকালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় শেখ জামাল। তৃতীয় ওভারে সাইফ হাসানকে ফেরান শরিফুল। সপ্তম ওভারে ভেতরে ঢোকানো ডেলিভারিতে বাঁহাতি এই পেসার বোল্ড করেন রবিউল ইসলামকে। পাওয়ার প্লেতে আর বিপদ ঘটেনি শেখ জামালের। তবে এরপর টানা তিন ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। একাদশ ওভারে ফজলে মাহমুদকে বোল্ড করেন তাসকিন। পরের ওভারে দলের সৈকত আলিকে ফেরান তানজিম।

অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের ২৩ রানই হয়ে থাকে দলের সর্বোচ্চ। দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে বিদায় নেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। তাকে কেনো রানই করতে দেননি তাসকিন। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি গত আসরের রানার্স-আপরা। ইয়াসির আলি চৌধুরি খানিকটা লড়াই করেন। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শরিফুলের বলে পয়েন্টে এনামুলের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন তিনি ১৭ রান করে। পাঁচ বলের মধ্যে শেষ তিন উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় শেখ জামাল। ৮৯ রানের লক্ষ্যে আবাহনীকে দ্রুতই পৌঁছে দেন নাঈম ও এনামুল। চলতি লিগে পঞ্চম পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে ৪০ বলে ৫৩ রান করেন নাঈম। ৮ চার ও ২ ছক্কা মারেন তিনি। এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে ৪ ফিফটি ও ১ সেঞ্চুরিতে ৪৬৯ রান করে রানের তালিকায় দুই নম্বরে উঠে গেছেন বাঁহাতি ওপেনার। এনামুলও খেলেন ঝড়ো ইনিংস। ৩টি করে চার-ছক্কায় তিনি অপরাজিত থাকেন ২২ বলে ৩৭ রান করে। ১১ ম্যাচের সবকটি জিতে পূর্ণ ২২ পয়েন্ট নিয়ে সুপার লিগ শুরু করবে আবাহনী। শেখ জামালের ঝুলিতে ১৬ পয়েন্ট। অন্য কোনো দলের আর ১৬ পয়েন্টের পাওয়ার সুযোগ নেই প্রাথমিক পর্বে। তাই সুপার লিগে ¯্রফে ৩টি জয় পেলে আরও একবার শিরোপার স্বাদ পাবে লিগের সফলতম দল আবাহনী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব: ২২.৪ ওভারে ৮৮ (সাইফ ১৬, সৈকত ২৩, রবিউল ৪, ফজলে মাহমুদ ১, সোহান ০, তাইবুর ১৪, ইয়াসির ১৭, জিয়াউর ২, ইয়াসিন ১, মেহেদি ০*, শফিকুল ০; শফিকুল ৭-১-৩৫-৪, তাসকিন ৫-১-১৬-২, তানজিম ৪-০-২২-১, তানভির ৪.৪-০-৭-২, মোসাদ্দেক ২-০-৫-১)
আবাহনী লিমিটেড: ১০.২ ওভারে ৯১/০ (এনামুল ৩৭*, নাঈম ৫৩*; শফিকুল ৩-০-১৮-০, ইয়াসিন ৩-০-২৩-০, মেহেদি ৩-০-৩৪-০, রবিউল ১-০-৯-০, ফজলে মাহমুদ ০.২-০-৬-০)
ফল: আবাহনী লিমিটেড ১০ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: শরিফুল ইসলাম।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *