রোহিতের ব্যাটে সমতায় ভারত

4

ক্রুনাল পান্ডিয়ার দুর্দান্ত বোলিং নিউ জিল্যান্ডকে আটকে রাখল মাঝারি স্কোরে। রোহিত শর্মার ঝড়ো ফিফটি দলকে এনে দিল ভালো শুরু। আগের ম্যাচে রেকর্ড ব্যবধানে হারের ধাক্কা সামলে বড় জয়ে সমতায় ফিরল ভারত।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। তিন ম্যাচ সিরিজে এখন ১-১ সমতা।
অকল্যান্ডে শুক্রবার ক্রুনালের বাঁহাতি স্পিনে শুরুর দিকেই ভোগায় নিউ জিল্যান্ডকে। ২০ ওভারে তোলে তারা ১৫৮ রান। ভারত অনায়াসে জেতে ৭ বল বাকি রেখে।
টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা কিউইরা তৃতীয় ওভারে হারায় টিম সাইফার্টকে। আগের ম্যাচে বিস্ফোরক ইনিংস খেলা ওপেনার এ দিন একটি করে চার ও ছক্কায় ১২ রান করে ফেরেন ভুবনেশ্বর কুমারের বলে।
কলিন মানরো ও কেন উইলিয়ামসন চেষ্টা করছিলেন জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ায়। তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভাব ক্রুনালের। পাওয়ার প্লের মধ্যে বোলিংয়ে এসেও বাঁহাতি স্পিনার এক ওভারে ফেরান মানরো ও ড্যারিল মিচেলকে।
মিচেলের উইকেটটি অবশ্য জন্ম দিয়ে তুমুল বিতর্কের। আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর রিভিউ নেন মিচেল। প্রথম রিপ্লেতেই ধরা পড়ে বল ব্যাটে লেগেছে বেশ জোরে, হটস্পটেও ধরা পড়ে স্পষ্টভাবে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে রিয়াল টাইম স্নিকোতে ধরা পড়েনি কিছু। রিপ্লে ও হটস্পটে যদিও যথেষ্ট ছিল ব্যাটে লাগার প্রমাণ, তবু স্নিকো দেখে তৃতীয় আম্পায়ার আউটের ঘোষণাই রেখে দেন।
ব্যাটসম্যান মিচেল, উইকেটে থাকা অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন প্রতিবাদ করেন তখনই। আলোচনা চলে কিছুক্ষণ। কিন্তু আম্পায়ারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর মিচেলের মাঠ না ছেড়ে উপায় ছিল না।
ক্রুনাল খানিক পর ফিরিয়ে দেন ১৭ বলে ২০ রান করা উইলিয়ামসনকেও। অষ্টম ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান তখন ৪ উইকেটে ৫০।
ধুঁকতে থাকা দলকে উদ্ধার করেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও রস টেইলর। প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটিতে ৪ ছক্কায় ২৮ বলে ৫০ করেন ডি গ্র্যান্ডহোম। ৩৬ বলে ৪২ করে টেইলর হন রান আউট।
শেষ দিকে বাঁহাতি পেসার খলিল আহমেদের জোড়া উইকেটে দ্রুত রান তুলতে পারেনি কিউইরা।
ছোটো মাঠ ও ব্যাটিং উইকেটে ১৫৯ রানের লক্ষ্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল না। ভারতের ব্যাটিংয়ে সেটি প্রমাণও হয়ে যায়। রোহিত ও শিখর ধাওয়ান উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৭৯ রান।
রোহিত ছিলেন বেশি আগ্রাসী। ২৯ বলে ৫০ রান করে ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক আউটও হন আগে। দলের জয়ের পথে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি দেখা পান দুটি মাইলফলকের।
মার্টিন গাপটিলকে (২ হাজার ২৭২) পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এখন রোহিতের (২ হাজার ২৮৮)। এ দিনের ৪ ছক্কায় তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ছুঁয়েছেন টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার সেঞ্চুরি। তার ১০২ ছক্কার চেয়ে বেশি ছক্কা আছে গাপটিল (১০৩) ও ক্রিস গেইলের (১০৩)।
লকি ফার্গুসনের গোলার মতো এক বাউন্সার পরে ধাওয়ানকে ফিরিয়েছে ৩০ রানে। তবে ভারতের জিততে সমস্যা হয়নি। তিনে নেমে ২৮ বলে ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন রিশাভ পান্ত। মহেন্দ্র সিং ধোনি ১৭ বলে ২০ করে আরও একবার ফিরেছেন দলের জয় সঙ্গে নিয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৮/৮ (সাইফার্ট ১২, মানরো ১২, উইলিয়ামসন ২০, মিচেল ১, টেইলর ৪২, ডি গ্র্যান্ডহোম ৫০, স্যান্টনার ৭*, কুগেলাইন ২, সাউদি ৩*; ভুবেনশ্বর ১/২৯, খলিল ২/২৭, হার্দিক ১/৩৬, ক্রুনাল ৩/২৮, চেহেল ০/৩৭)।
ভারত: ১৮.৫ ওভারে ১৬২/৩ (রোহিত ৫০, ধাওয়ান ৩০, পান্ত ৪০*, শঙ্কর ১৪, ধোনি ২০*; সাউদি ০/৩৪, কুগেলাইন ০/৩২, ফার্গুসন ১/৩১, স্যান্টনার ০/১৬, সোধি ১/৩১, মিচেল ১/১৫)।
ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ: ক্রুনাল পান্ডিয়া