রোমাঞ্চকর ম্যাচে সিটিকে হারাল টটেনহ্যাম

7

দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৯ বার বল পাঠানোর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরল শুরুতেই গোল খেয়ে। দুইবার পিছিয়ে পড়ে স্বস্তি ফিরলেও শেষ পর্যন্ত টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে পেরে উঠল না ম্যানচেস্টার সিটি। রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচে প্রায় ভুলে যাওয়া হারের তেতো স্বাদ পেল পেপ গুয়ার্দিওলার দল। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শনিবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সিটিকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে টটেনহ্যাম। দেজান কুলুসেভস্কি টটেনহ্যামকে এগিয়ে নেওয়ার পর সমতা ফেরান ইলকাই গিনদোয়ান। হ্যারি কেইনের গোলে সফরকারীরা আবার এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা টানেন রিয়াদ মাহরেজ। পরে জয় নিশ্চিত করেন কেইন। শেষ দুটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে। এই হারে লিগে সিটির ১৫ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রায় ছেদ পড়ল। টটেনহ্যামের বিপক্ষে হারল দুবারের দেখাতেই। দলটির মাঠে ১-০ গোলের হার দিয়েই আসর শুরু করেছিল শিরোপাধারীরা।

মাঝে তারা হেরেছিল আর একবারই, গত অক্টোবরে ঘরের মাঠে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ২-০ গোলে। এরপর ১৫ ম্যাচের মধ্যে ১৪টিতেই তারা জিতেছিল। প্রিমিয়ার লিগে গত রাউন্ডে নরিচ সিটির বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্পোর্তিং লিসবনকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল সিটি। এবার তাদের জালে চতুর্থ মিনিটেই বল পাঠায় টটেনহ্যাম। কেইনের থ্রু বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন সন হিউং-মিন। দক্ষিণ কোরিয়ার এই ফরোয়ার্ড নিজে গোল করার পজিশনে থাকলেও গোলরক্ষককে এগিয়ে আসতে দেখে বল দেন পাশে থাকা কুলুসেভস্কিকে। ফাঁকা জালে বল পাঠান গত মাসে ইউভেন্তুস থেকে ধারে দলটিতে আসা এই সুইডিশ মিডফিল্ডার। ২০তম মিনিটে সমতায় ফিরতে পারত সিটি। রাহিম স্টার্লিংয়ের পাসে গিনদোয়ানের প্রচেষ্টা পোষ্টে লেগে ফেরে। দুই মিনিট পর জোয়াও কানসেলোর হাফ ভলি পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

৩৩তম মিনিটে ভুল করে বসেন উগো লরিস। স্টার্লিংয়ের ক্রস ধরতে গিয়ে বল তার হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। কাছ থেকে ঠিকানা খুঁজে নেন জার্মান মিডফিল্ডার গিনদোয়ান। ৫৯তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় টটেনহ্যাম। এবারও গোলের উৎস সন। তার ক্রসে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে শটে জাল খুঁজে নেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড কেইন। তিন মিনিট পর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ আসে কেইনের সামনে। এবার তার প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক এদেরসন। একটু পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে গিনদোয়ানের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে ফেরান লরিস। ৭৩তম মিনিটে আবার বল জালে পাঠিয়ে উৎসবে মাতেন কেইন। তবে ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। শেষ কয়েক মিনিটে আরও জমে ওঠে লড়াই। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে বের্নার্দো সিলভার শট ডি-বক্সে টটেনহ্যামের আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হাতে লাগলে পেনাল্টির জোরাল আবেদন করে সিটির খেলোয়াড়রা। ভিএআরের সাহায্যে স্পট কিকের বাঁশি বাজান রেফারি।

আর সমতার স্বস্তি ফেরান মাহরেজ। স্বাগতিকদের সেই স্বস্তি টেকেনি বেশিক্ষণ। সাত মিনিট যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কুলুসেভস্কির ক্রসে হেডে বল জালে পাঠিয়ে টটেনহ্যামকে উৎসবে ভাসান কেইন। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলের মাঝে এখন ব্যবধান ৬ পয়েন্টের। ২৬ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি। দিনের আগের ম্যাচে নরিচ সিটিকে ৩-১ গোলে হারানো লিভারপুল ২৫ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে। লিভারপুলের সমান ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা চেলসি। ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে চারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সমান ৪২ পয়েন্ট নিয়ে পরের দুটি স্থানে আছে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড ও আর্সেনাল। ওয়েস্ট হ্যাম খেলেছে ২৬ ম্যাচ, আর্সেনাল ২৩টি। আর্সেনালের সমান ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে টটেনহ্যাম হটস্পার।