রেডিও মহানন্দা, মানুষের হৃদয়ের কাছাকাছি

82

রেহানা বীথি

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি জেলা চাঁপাই নবাবগঞ্জ। ভারত উপমহাদেশ ভাগ হওয়ার আগে এটি মালদহ জেলার একটি অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের কারণে মালদহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চাঁপাই নবাবগঞ্জ পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাজশাহী জেলার একটি মহকুমা হিসেবে গণ্য হয়। পরে ১৯৮৪ সালে একটি একক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মহানন্দা নদী আর নানা জাতের সুস্বাদু আম গাছের সুশীতল ছায়ায় আজও বহমান আমের রাজধানী চাঁপাই নবাবগঞ্জের শান্তিপূর্ণ জনপদ। এই শান্তিপূর্ণ জনপদের স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্া, ভাষা এবং সংস্কৃতিকে গোটা দেশ এবং দেশের বাইরেও সঠিক ও সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে যে প্রতিষ্ঠানটি সেটি হল আমাদের সবার প্রিয় রেডিও মহানন্দা। আর এই রেডিও মহানন্দা কে সার্বিকভাবে সফল করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এখানে কর্মরত একঝাঁক কর্মঠ, উদ্যমী এবং প্রাণবন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী। এসবকিছুই সম্ভব হয়েছে একজন স্বপ্নবাজ মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে। তিনি হলেন রেডিও মহানন্দার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব হাসিব হোসেন। ২৮ অক্টোবর ২০১১ ইং তারিখ রাত ১টা ৪৩ মিনিটে অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর ২০১১ রেডিও মহানন্দা তার প্রথম পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু করে এবং ২৭ মিনিট সম্প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে ১৫ নভেম্বর রাত ৮ টায় সম্প্রচার শুরু হয়। এরপর ১৬ থেকে ২৩ তারিখ বিকাল ৩ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সম্প্রচার চলে। ২৪ তারিখ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিনের যে কোনও সময় ১/২ ঘন্টা সম্প্রচার হতো। ৪-৫ ডিসেম্বর ২০১১ইং তারিখ কমিউনিটি রেডিও রেগুলেটরি কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যগণ রেডিও মহানন্দা স্টেশন পরিদর্শন করে সম্প্রচারের অনুমতি দিলে ৬ ডিসেম্বর থেকে পুণরায় বিকেল ৩ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সম্প্রচার শুরু হয়। অবশেষে ২৮ ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক রেডিও মহানন্দা সম্প্রচারের জন্য লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়। সেই থেকে আজোবধি রেডিও মহানন্দার অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে। রেডিও মহানন্দা তার অত্যন্ত মনোগ্রাহী কার্যক্রমের মাধ্যমে পৌঁছে গেছে চাঁপাই নবাবগঞ্জের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায়। এককথায় এই অঞ্চলের ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির ধারক বলা যায় রেডিও মহানন্দাকে। বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে এলাকার জনগণকে সচেতন করার যে প্রয়াস চালাচ্ছে রেডিও মহানন্দা , তা সত্যিই অনুসরণীয়। বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, বিজ্ঞানের টুকিটাকি, কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ, বিভিন্ন আইন এবং তার সঠিক প্রয়োগ বিষয়ে জনসচেতনতা, প্রাতঃস্মরণীয় মহান ব্যক্তিদের জীবন নিয়ে আলোচনা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে নিত্যই রয়েছে রেডিও মহানন্দা একেবারে মানুষের হƒদয়ের কাছাকাছি। রেডিও মহানন্দার কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য হয়েছে আমার। সেসব অনুষ্ঠানে দেখেছি, যেকোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে সরাসরি যুক্ত হতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে। শ্রোতার সাথে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে একটি অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে আরও বেশি সুন্দর ও প্রাণবন্ত। প্রান্তিক জনগণের চিন্তা চেতনা, তাদের ভাবনার প্রতিফলনও যে কোনও অনুষ্ঠানকেই অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে বিরাট ভূমিকা পালন করে। রেডিও মহানন্দা এই বিষয়টি সুন্দরভাবে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন জয় করে চলেছে মানুষের মন। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগণ, যাদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না, তাদের পাশে সবসময়ই আছে রেডিও মহানন্দা। আর এ কারণেই রেডিও মহানন্দা খুব অল্প সময়েই পৌঁছে গেছে মানুষের হƒদয়ের কাছাকাছি। বিভিন্ন দিবসকে ঘিরেও থাকে রেডিও মহানন্দার বর্ণাঢ্য নানা আয়োজন। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ ছাড়াও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোকে কেন্দ্র করে শোভাযাত্রাসহ মনোগ্রাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে রেডিও মহানন্দা একরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যা অবশ্যই অনুসরণীয়। এছাড়া চাঁপাই নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা কে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে উপস্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছে নানান বিষয়। রেডিও মহানন্দা তার সুপরিকল্পিত কর্মকা- ও আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। চলতে চলতে একে একে পার করেছে সাতটি বছর। আর মাত্র কয়েকদিন পর অর্থাৎ আগামী ২৮ ডিসেম্বর পার করতে যাচ্ছে আরও একটি বছর। একে একে পার করা এই বছরগুলোতে সে পেয়েছে হাজারও মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা আর সীমাহীন সাফল্য। আগামীতেও তার এই সাফল্য অব্যাহত থাকুক, একে একে পেরিয়ে যাক এমন সাফল্যম-িত আরও অনেক অনেক বছর। আগামীতেও ভরে থাক তার সমস্ত কর্মকা- হাজারও মানুষের হƒদয় নিঃসৃত অকুণ্ঠ ভালোবাসায়।