রেকর্ড গড়ে জয় পেলো ভারত

7

প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ কাইল মেয়ার্স এবার দারুণ ফিফটিতে খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। সঙ্গে রভম্যান পাওয়েল ও শিমরন হেটমায়ারের শেষের ক্যামিওতে দেড়শ ছাড়ানো পুঁজি পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বোলিংয়ে লড়াই করতেই পারল না ক্যারিবিয়ানরা। সূর্যকুমার যাদবের খুনে ব্যাটিংয়ে ভারত পেল অনায়াস জয়। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১-এ এগিয়ে গেল ভারত। সেন্ট কিটসে মঙ্গলবার ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত সেটি পেরিয়ে যায় এক ওভার বাকি থাকতে। ওয়ার্নার পার্কে টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার দেড়শর বেশি রান তাড়া করে জিতল কোনো দল। আগের রেকর্ড ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানের ১৪৬ রান তারা পেরিয়ে গিয়েছিল ৭ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখে। ৪৪ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে ভারতের নায়ক সূর্যকুমার।

এই ওপেনারের ইনিংসটি গড়া ৮ চার ও ৪ ছক্কায়। ২৬ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৩৩ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন কিপার-ব্যাটসম্যান রিশাভ পান্ত। ত্রিনিদাদ থেকে যথাসময়ে লাগেজ না আসায় আগের দিন দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হয়েছিল তিন ঘণ্টা দেরিতে। তাই খেলোয়াড়দের বাড়তি বিশ্রাম দিতে তৃতীয় ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়া হয় দেড় ঘণ্টা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্রান্ডন কিং ও মেয়ার্সের ব্যাটে ভালো সূচনা পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাওয়ার প্লেতে দুই জনে তোলেন বিনা উইকেটে ৪৫ রান। অষ্টম ওভারে ৫৭ রানের শুরুর জুটি ভাঙে কিংয়ের বিদায়ে। ২০ বলে ২০ রান করা ডানহাতি ওপেনারকে বোল্ড করে এই সংস্করণে উইকেটের ফিফটি পূর্ণ করেন হার্দিক পান্ডিয়া। পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে ভারতের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৫০০ রান ও ৫০ উইকেটের ডাবল স্পর্শ করলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তিন নম্বরে নামা নিকোলাস পুরানের মন্থর ব্যাটিংয়ে কিছুটা কমে যায় স্বাগতিকদের রানের গতি। মাঝে ২৩ বলে আসেনি কোনো বাউন্ডারি।

একপর্যায়ে অধিনায়ক পুরানের রান ছিল ১৭ বলে ৯। মেয়ার্স খেলেন চমৎকার সব শট। অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এই সংস্করণে দ্বিতীয় ফিফটি করেন ৩৮ বলে। পুরানও চেষ্টা করেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার। আভেশ খানকে চার মারার পর ভুবনেশ্বর কুমারকে ছক্কা হাঁকান তিনি। ওই ওভারেই কিপারকে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ২২ বলে ২৩ রানের ইনিংস। ভুবনেশ্বরের পরের ওভারে একটি ছক্কা মারার পরই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মেয়ার্স। ৫০ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭৩ রান করেন তিনি। পরে পাওয়েল ও হেটমায়ারের ব্যাটে দেড়শ ছাড়ায় দলের সংগ্রহ। শেষ ওভারে আর্শদিপ সিংয়ের তিন বলের মধ্যে আউট হন দুজনই। ১৪ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় পাওয়েল করেন ২৩ রান। ১২ বলে ২ ছক্কায় হেটমায়ার করেন ২০। ভারতের হয়ে ৩৫ রানে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন ভুবনেশ্বর।

পান্ডিয়া ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন একটি। রান তাড়ায় নেমে দ্বিতীয় ওভারে বড় এক ধাক্কা খায় ভারত। আলজারি জোসেফকে ছক্কা-চার মারার পর অধিনায়ক রোহিত শর্মা মাঠ ছাড়েন পিঠে অস্বস্তি অনুভব করায়। পরে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, চিকিৎসক দলের পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি। সূর্যকুমার দলকে কক্ষপথে রাখেন শ্রেয়াস আইয়ারের সঙ্গে জুটি বেঁধে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তিনি ৩ ছক্কা ও ৬ চারে পঞ্চম ফিফটি তুলে নেন ¯্রফে ২৬ বলে। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর জোসেফকে আরেকটি ছক্কা মারেন চোখ ধাঁধানো এক শটে। এতে ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ভারত তুলে ফেলে ৯৬ রান। জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন আকিল হোসেন। বাঁহাতি স্পিনারকে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় বলের লাইন মিস করে স্টাম্পড হন শ্রেয়াস (২৭ বলে ২৪)।

 

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৮৬ রান আসে ৫৯ বলে। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে থামেন সূর্যকুমার। ডমিনিক ড্রেকসের অফ স্টাম্পের বাইরের বল লেগ সাইডে খেলার চেষ্টায় ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তখন ম্যাচ অনেকটাই ভারতের মুঠোয়। পাঁচ নম্বরে নেমে পান্ডিয়া যদিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাতে কোনো সমস্যাও হয়নি ভারতের। দিপক হুডাকে সঙ্গে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন পান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লডারহিলে আগামী শনি ও রোববার হবে সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ। ওই দুই ম্যাচ নিয়ে কিছু জটিলতা অবশ্য রয়ে গেছে এখনও। মাঝে আর মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও খেলোয়াড়সহ উভয় দলের কিছু সদস্য এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। তবে আয়োজক ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাল ছাড়ছে না। দুই দলই বুধবার গায়ানার জর্জটাউনে উড়াল দেবে। সেখানে মার্কিন দূতাবাসে তাদের ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ রয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৬৪/৫ (কিং ২০, মেয়ার্স ৭৩, পুরান ২২, পাওয়েল ২৩, হেটমায়ার ২০, টমাস ০*, হোল্ডার ১*; হুডা ১-০-১-০, ভুবনেশ্বর ৪-০-৩৫-২, আভেশ ৩-০-৪৭-০, পান্ডিয়া ৪-০-১৯-১, আর্শদিপ ৪-০-৩৩-১, অশ্বিন ৪-০-২৬-০)
ভারত: ১৯ ওভারে ১৬৫/৩ (রোহিত ১১, আহত অবসর, সূর্যকুমার ৭৬, শ্রেয়াস ২৪, পান্ত ৩৩*, পান্ডিয়া ৪, হুডা ১০* ম্যাককয় ৪-০-৩৪-০, জোসেফ ৪-০-৩৯-০, ড্রেকস ৪-০-৩৩-১, হোল্ডার ৩-০-৩০-১, আকিল ৪-০-২৮-১)
ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজের প্রথম তিনটির পর ২-১-এ এগিয়ে ভারত
ম্যান অব দা ম্যাচ: সূর্যকুমার যাদব