দৈনিক গৌড় বাংলা

শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

রেকর্ডময় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ইতিহাস গড়া জয়

ইনিংস শুরু করতে নেমে পুরো ৫০ ওভার খেলে অপরাজিত ১৮৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দিলেন লরা উলভার্ট। নারী ওয়ানডে ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস সেটি। কিন্তু ম্যাচ শেষে সেই ইনিংসটি নেমে গেল পাঁচে। উলভার্টকেও যে ছাড়িয়ে গেলেন চামারি আতাপাত্তু! ১৯৫ রানের অসাধারণ অপরাজিত ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কাকে অনন্য এক জয় এনে দিলেন অধিনায়ক। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার রানের পাহাড় টপকে ৬ উইকেটে জিতে যায় শ্রীলঙ্কা। পচেফস্ট্রুমে বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক উলভার্ট ১৪৭ বলে ১৮৪ রান করেন ২৩ চার ও ৪ ছক্কায়। তার দল ৫০ ওভারে তোলে ৩০১ রান। সেই রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কা জিতে যায় ৩৩ বল বাকি রেখেই। অবিশ্বাস্য এই রান তাড়ার নায়ক আতাপাত্তু। ১৩৯ বলে ১৯৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে ২৬ চার ও আধ ডজন ছক্কা মারেন লঙ্কান অধিনায়ক। ইতিহাসের ১ হাজার ৩৮০তম ম্যাচে এসে এই প্রথমবার তিনশ রান তাড়ার নজির দেখল নারী ওয়ানডে ক্রিকেট। ২০১২ সালে নিউ জিল্যান্ডের ২৮৮ রান টপকে অস্ট্রেলিয়ার জয় ছিল আগের রেকর্ড। রান তাড়ায় ভিশ্মি গুনারাতেœর সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৯০ রান তোলেন আতাপাত্তু। ষোড়শ ওভারে ভিশ্মি আউট হন ২৬ রান করে।

এরপর দ্রুত আরও তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় লঙ্কানরা। ৩৬ রানের মধ্যে চার উইকেট হারায় তারা। তবে ৪ উইকেটে ১২৬ রান থেকে দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের ঠিকানায় নিয়ে যান আতাপাত্তু ও নিলাকশিকা সিলভা। ম্যাচ জেতানো অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৪৬ বলে ১৭৯ রান যোগ করেন দুজন। জুটির ১১০ রানই আসে আতাপাত্তুর ব্যাট থেকে। তাকে সঙ্গ দিয়ে নিলাকশিকা অপরাজিত থাকেন ৭১ বলে ৫০ রান করে। আতাপাত্তু শতরান স্পর্শ করেন ৭৮ বলে। পরে দেড়শ ছুঁয়ে নিজের আগের সর্বোচ্চ ১৭৮ পেরিয়ে দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন। দলের জয়ের জন্য যখন ১৯ রান লাগে, আতাপাত্তুর ডাবল সেঞ্চুরিতেও তখন প্রয়োজন ১৯ রান। তবে দুইশ পর্যন্ত যেতে পারেননি তিনি। মাঠ ছাড়েন তিনি ছক্কায় ম্যাচ শেষ করে। ম্যাচে শুধু রান তাড়ার ইতিহাসই হয়নি, রেকর্ড হয়েছে আরও একগাদা।

আতাপাত্তুর এই ১৯৫ রানের ইনিংস নারী ওয়ানডের ইতিহাসে রান তাড়ায় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। রান তাড়ায় দেড়শ ছুঁতে পেরেছিলেন আগে কেবল একজনই। ২০১৭ সালে ১৫২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মেগ ল্যানিং। ছেলে-মেয়ে মিলিয়েই ওয়ানডেতে রান তাড়ায় বড় ইনিংস আছে আর একটি, গত বিশ্বকাপে ২০১ রানের যে ইনিংস খেলেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। নারী ওয়ানডেতে ১৭৫ রান ছোঁয়া ইনিংস একাধিকবার খেলা প্রথম ব্যাটার আতাপাত্তুই। ২০১৭ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ১৭৮। রান তাড়ায় সবচেয়ে বেশি ২৬ চারের রেকর্ডও এখন আতাপাত্তুর। আগের রেকর্ড ছিল ল্যানিংয়ের ২১ চার। আতাপাত্তুর এটি নবম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। অবিশ্বাস্যভাবে, শ্রীলঙ্কার আর কোনো ব্যাটার এখনও পর্যন্ত কোনো সেঞ্চুরিই করতে পারেননি। বিশ্বরেকর্ডে আতাপাত্তুর ওপরে আছেন মেগ ল্যানিং (১৫) ও সুজি বেটস (১৩)। ১৮৪ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন লরা উলভার্ট।

তাদের আগের সর্বোচ্চ ছিল জোমারি লগটেনবার্গের ১৫২। আরেকটি রেকর্ড নিয়ে অবশ্য খুশি খুব একটা হওয়ার কথা নয় উলভার্টের। হেরে যাওয়া ম্যাচে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ইনিংস এখন এটিই। অনাকাক্সিক্ষত রেকর্ডটি থেকে মুক্তি পেয়েছে আতাপাত্তুর ১৭৮ রানের ইনিংসটি। আতাপাত্তু ও উলভার্ট মিলেও নাম তুলেছেন রেকর্ড বইয়ে। ছেলে-মেয়ে মিলিয়েই প্রথমবার একই ওয়ানডেতে ১৭৫ ছোঁয়া ইনিংস হলো দুটি। এই ম্যাচে দুজনের সম্মিলিত রান ৩৯০। ছেলে-মেয়ে মিলিয়েই ওয়ানডেতে দুই অধিনায়কের মোট রানে যা সবার ওপরে। যোজন যোজন পেছনে পড়ে গেছে ভিরাট কোহলি ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ২৭৮ রান। ২০১৪ সালে রাঁচির ওয়ানডেতে ভারত-শ্রীলঙ্কার দুই অধিনায়কই অপরাজিত ছিলেন ১৩৯ রান করে। এত এত রেকর্ডের ম্যাচটি জিতে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

About The Author