রিজার্ভের বাকি ৬৬ মিলিয়ন ডলারও ফেরত পাব : আইনমন্ত্রী

137

anisulবাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের ৬৬ মিলিয়ন ডলারের পুরোটাই ফিলিপাইন থেকে ফেরত পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। দেশটি সফর শেষে ফিরে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী এ কথা জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের টাকা ফেরতের বিষয়ে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, মোট রিজার্ভের ৬৬ মিলিয়ন ডলার এখনো উদ্ধারের বাকি আছে। ইনশাআল্লাহ, ওই পুরো টাকাই ফেরত পাব। চার দিনের ফিলিপাইন সফর শেষে টাকা উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ফিলিপাইনের আদালতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি ওই দেশের সরকারের সঙ্গে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ফিলিপাইনের আদালতে আমরা একটি রায় পেয়েছি। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আছি। ওই দেশের আইন প্রতিমন্ত্রী ও চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা তাঁদের সহযোগিতা চেয়েছি, এবং তাঁরা আমাদের সহযোগিতা করে চলেছেন। কবে নাগাদ এই টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব হবেÑসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। পুরো আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই আমরা টাকা ফেরত পাব। গত ২৭ নভেম্বর আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ ফেরতের বিষয়ে ফিলিপাইন সফর করে। এ সময় প্রতিনিধিদলটি ফিলিপাইন সিনেটের প্রেসিডেন্ট, অর্থমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সফরের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া রিজার্ভের পুরো অর্থই ফিলিপাইন সরকার ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ বিষয়ে ফিলিপাইন সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ফিলিপাইন সরকার আবারও শুনানি শুরু করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ১২ নভেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির প্রায় ১০ মাস পর ফিলিপাইন থেকে প্রায় দেড় কোটি ডলার ফেরত পেয়েছিল বাংলাদেশ। ওই দিন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপিনাস’ মারফত মোট এক কোটি ৫২ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার ফেরত পাওয়া গিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা রাজি হাসান তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল ফিলিপাইন থেকে এক কোটি ৫২ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার গ্রহণ করেছে। এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সাইবার চক্রের হ্যাকাররা সুইফট কোড জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে। বিপুল পরিমাণ এ অর্থের মধ্যে স্থানান্তরিত করে আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি) পাঠানো হয়। আর শ্রীলঙ্কার প্যান এশিয়ান ব্যাংকে যায় ২০ মিলিয়ন ডলার। সুইফট কোডের মাধ্যমে অভিনব এই চুরির পরপরই শ্রীলঙ্কার অর্থ ফেরত পাওয়া গেলেও ফিলিপাইনে আসা সব অর্থ উদ্ধার করা যায়নি। আট কোটি ১০ লাখ ডলারের অধিকাংশই রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন স্থানের জুয়ার টেবিলে চলে যায়। এভাবেই ওই টাকা আইনগতভাবে বৈধ টাকায় (সাদা টাকা) পরিণত করেছিল চোররা। পরবর্তীকালে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির শুনানিতে অর্থ পাচারে সম্পৃক্ত ক্যাসিনো মালিক কিম অং দেড় কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিন ধাপে তিনি ওই টাকা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দেন। পরে এই অর্থ ফেরত পেতে ফিলিপাইনের বিচার বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি আইনি নথি ও প্রতিবেদন লিপিবদ্ধ করতে পরামর্শ দিয়েছিল। এর আগে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপিনাসকে’ (বিএসপি) বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি হওয়া টাকার এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির একটি আঞ্চলিক আদালত।