রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত : আইনমন্ত্রী

72

anisulসাত খুনের মামলায় রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ‘জনগণের ভীতির দূর হবে’ বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের আদালত রায় ঘোষণার পর দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমার মনে হয় জনগণ এই রায়ে সন্তুষ্ট হবে এবং এই ঘৃণ্য অপরাধে যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছিল সেই ভীতি দূর হবে। সাত খুনের মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও সাবেক তিন র‌্যাব কর্মকর্তাসহ ২৬ আসামির ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। এ মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদ-। কোনো মামলায় ফাঁসির আদেশ হলে অনুমোদনের জন্য সাত দিনের মধ্যে রায়ের নথি হাই কোর্ট বিভাগে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাই কোর্ট ডিভিশন দ- বহাল রাখলে আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ থাকবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে রায় কার্যকর হবে। এই অপরাধের নৃশংতায় যারা জড়িত… বিজ্ঞ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণে তা পেয়েছেন যদি অপরাধ হিসেবে হত্যাকা- প্রমাণিত হয় তাহলে কিন্তু ফাঁসি দেওয়াটা হচ্ছে দ্য ফার্স্ট পানিশমেন্ট। মিটিগেশন বা অন্যান্য কারণ দেখানো হলে তাহলে এটাকে যাবজ্জীবন দেওয়া যায়। সেই ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আদালত এই অপরাধের নৃশংসতা, এই অপরাধের ষড়যন্ত্রের যে ঘৃণ্যতা- এসব বিচার করে ২৬ জনকে ফাঁসির রায় দিয়েছেন। সাত খুনের ঘটনায় দ-িত ৩৫ জনের মধ্যে ২৫ জনই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। মামলার নথিতে বলা হয়, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে র‌্যাব সদস্যদের দিয়ে ওই হত্যাকা- ঘটানো হয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আনিসুল হক বলেন, যেই অপরাধ করুন, তাকে বিচারের আওতায় এনে তার সুষ্ঠু বিচার করাই হচ্ছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আমার মনে হয় আমরা সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। আপনাদের একটা জিনিস মনে রাখতে হবে- এই দেশে জাতির পিতাকে হত্যা করার পরে ২১ বছর মামলার এজহার কেউ করেনি, সেই জায়গা থেকে আজকের বাংলাদেশ যেখানে এসেছে নিশ্চয়ই আপনারা স্বীকার করবেন এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার কি না- এমন প্রশ্নে আনিসুল বলেন, এসব বাহিনী স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, এটা তাদের বিবেচনার বিষয়।